এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২৫,৭৫৩ জন শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। যে রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। হাই কোর্টের এই রায়ে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয় শীর্ষ আদালত। লোকসভা নির্বাচন মেটার পর আজ, মঙ্গলবার ফের এই মামলার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চে।
সুপ্রিম কোর্ট আজ জানিয়েছে, দু’সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য এবং এসএসসি-সহ সমস্ত পক্ষকে হলফনামা দিতে হবে। সঙ্গে পাঁচ পক্ষের বক্তব্য শুনবে শীর্ষ আদালত। এই পাঁচ পক্ষ হল, রাজ্য, এসএসসি, মূল মামলকারী, চাকরিহারা এবং সিবিআই। এ ছাড়া অন্য কোনও পক্ষ তাদের বক্তব্য জানাতে চাইলে লিখিত ভাবে জানাতে পারে, তবে সেই বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখতে হবে পাঁচ পাতার মধ্যে। তিন সপ্তাহ পরে এই মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে, অর্থাৎ অগস্ট মাসে।

প্রসঙ্গত, গত এপ্রিল মাসে ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করে দেয় হাই কোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ। সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয় অযোগ্যদের টাকা ফেরত দেওয়ার। সেক্ষেত্রেও সুপ্রিম কোর্ট আগেই জানায়, আপাতত কাউকে বেতন ফেরত দিতে হবে না। কারণ, এই প্রায় ২৬ হাজারের মধ্যে যোগ্য-অযোগ্য বাছাই নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
পিছিয়ে গেল SSC চাকরি বাতিল মামলার শুনানি, তিন সপ্তাহ পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

এসএসসি-র তরফে বলা হয় যোগ্য-অযোগ্য নির্ধারণ সম্ভব। সেই কারণে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ‘‘এখনই চাকরি বাতিল করা হচ্ছে না। যদি যোগ্য এবং অযোগ্য আলাদা করা সম্ভব হয়, তা হলে গোটা প্যানেল বাতিল করা ন্যায্য হবে না।’’ পাশাপাশি, রাজ্যের মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে তদন্তেও স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তবে, অযোগ্য প্রমাণ হলে বেতন ফেরত দিতে হবে তা স্পষ্ট করে শীর্ষ আদালত।



