সুপ্রিম কোর্টের ‘কুনজরে’ বাবা রামদেবের আয়ুর্বেদ সংস্থা পতঞ্জলি। শীর্ষ আদালতের সাফ বক্তব্য, পতঞ্জলির বিজ্ঞাপন ‘বিভ্রান্তিকর এবং মিথ্যা’! ইতিমধ্যেই সমস্ত গণমাধ্যম ও সমাজমাধ্যম থেকে পতঞ্জলির বিজ্ঞাপন মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত এপ্রিলে উত্তরাখণ্ড সরকারের লাইসেন্সিং বিভাগ পতঞ্জলির ১৪টি পণ্য উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট সেই পণ্যগুলির বিজ্ঞাপনও বন্ধ করতে বলল।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিমা কোহলি এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার সংক্রান্ত পুরো বিষয়টির নজরদারির ভার ‘ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’ (আইএমএ)-কে দিয়েছে। আগেই পতঞ্জলির বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল আইএমএ। পতঞ্জলির তরফে জানানো হয়েছে, বিজ্ঞাপনগুলি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

যে ১৪টি পণ্যের বিক্রি এবং বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়েছে, সেগুলি হল, এক, ‘শ্বাসরি গোল্ড’ ক্যাপসুল, এটি ফুসফুসের সমস্যা সমাধানের ওষুধ। দুই, ‘শ্বাসরি বটি’ ট্যাবলেট। এটি কাশির ওষুধ। তিন, ‘ব্রঙ্কোম’ ট্যাবলেট। এটিও ফুসফুসের সমস্যা সমাধানের ওষুধ। চার, ‘শ্বাসরি প্রবাহী’। পাঁচ, ‘শ্বাসরি আভালেহ’। এই দুটিই শ্বাসকষ্টের টনিক বলে প্রচার করত পতঞ্জলি। ছয়, ‘মুক্তবতী এক্সট্রা পাওয়ার’। এটা শক্তিবর্ধক ট্যাবলেট। সাত, ‘লিপিডম’। এটি হৃদযন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে বলে বিজ্ঞাপন করত পতঞ্জলি।
আট, ‘বিপি গ্রিট’। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ। নয়, ‘মধুগ্রিট’, এটি সুগার কমানোর জন্য ব্যবহার হয়। দশ, ‘মধুনাশিনীবতী এক্সট্রা পাওয়ার’। এটিও ডায়াবেটিসে সাহায্য করে বলে প্রচার করত পতঞ্জলি। এগারো, ‘আইগ্রিট গোল্ড’। বারো, ‘পতঞ্জলি দৃষ্টি আই ড্রপ’। দুটিই চোখ সুস্থ রাখে বলে বিক্রি করা হত। তেরো, ‘লিভামৃত এডভ্যান্স’। চৌদ্দ, ‘লিভোগ্রিট’। দুটিই পেট ভালো রাখার ওষুধ বলে দাবি করা হত।
সুপ্রিম কোর্টের ‘কোপে’ বাবা রামদেব, বিক্রি এবং বিজ্ঞাপন বন্ধ পতঞ্জলির ১৪টি পণ্যের!

আইএমএ-এর মতে, পতঞ্জলির বেশিরভাগ পণ্যের বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্তিমূলক প্রচার করা হয়। এই নিয়ে গত বছরের নভেম্বরে পতঞ্জলিকে সতর্ক করেছিল শীর্ষ আদালত। এর আগেই অবশ্য করোনার প্রতিষেধক হিসাবে ‘করোনিল’ বলে একটি পণ্য বাজারে আনে পতঞ্জলি। যেটি বিক্রি করে আড়াইশো কোটি টাকার বেশি মুনাফা করেছিল রামদেবের এই সংস্থা। যদিও এই ওষুধ আদৌ কোভিড প্রতিরোধী-ই নয়!



