বুধবার সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে ছিল বিজেপির বর্ধিত কার্যকারিণী বৈঠক। আর সেখানেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর একের পর এক মন্তব্যে শুরু হয়েছে বিতর্ক। শুভেন্দুর বক্তব্যকে পার্টি সমর্থন করে না বলে সাফ জানিয়েছেন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি এও স্বীকার করে নিয়েছেন তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে, তবে মনবিরোধ নেই। ব্যাপারটা ঠিক কী?
এদিনের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সবকা সাথ সবকা বিকাশ চাই না। যারা আমাদের পক্ষে আমরাও তাঁদের পক্ষে। সংখ্যালঘু সেলের প্রয়োজন নেই!” এই স্লোগান মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্লোগান। যা গোটা দেশে বিজেপি প্রচার করে থাকে। অথচ সেই স্লোগানেই যেন শুভেন্দুর ‘বিশ্বাস’ নেই! যদিও এরপর বিতর্ক দানা বাঁধতেই বিরোধী দলনেতা বলেন, তাঁর মন্তব্যকে নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

পাশাপাশি, লোকসভা ও বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির ব্যর্থতার দায় কায়দা করে সুকান্ত মজুমদারের ‘ঘাড়ে’ চাপিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি বলেছেন, “আমি সংগঠনের লোক নই। আমি বিরোধী দলনেতা।” এই মন্তব্যের জবাবে সুকান্ত সাফ জানিয়েছেন, “ভোটে সংগঠনের কাজ শুধু ২৫ শতাংশ। ভোটে জিতলে সকলেই বলবে সংগঠন মজবুত। আর হেরে গেলেই অন্য কথা!” উল্লেখ্য, আজকের বৈঠকে সুকান্ত দাবি করেন, বিজেপির আসন বাংলায় কমলেও সার্বিক ফলাফল ভালো হয়েছে এবং আগামী দিনে আরও ভালো হবে। শুভেন্দু-সুকান্ত মতানৈক্যের এই ঘটনায় তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, “হেরে গিয়ে বিজেপিতে সার্কাস চলছে!”
লোকসভা ভোট এবং বিধানসভা উপনির্বাচনে ভরাডুবির পর আজ, বুধবার বর্ধিত আকারেই বিজেপির রাজ্য কর্মসমিতির বৈঠক হল। জেলা সভাপতি, জেলা ইন-চার্জ-সহ দলের সর্বস্তরের নেতাদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন রাজ্য স্তরের সমস্ত মোর্চা এবং শাখা সংগঠনের সদস্যেরা। সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষরাও ছিলেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে সুনীল বনশল, মঙ্গল পাণ্ডেরা আসেন এই বৈঠকে।
শুভেন্দুর সঙ্গে প্রকাশ্যে মতবিরোধ সুকান্তের, বিজেপিতে সার্কাস চলছে কটাক্ষ তৃণমূলের

শুভেন্দুর পাশাপাশি এদিন বৈঠকে প্রবেশের আগে বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেন, “সাংগঠনিক রদবদলের প্রয়োজন আছে। কোনও ব্যর্থ মানুষকে দেখতে পছন্দ করেন না জনগণ। দলে নতুনদের সুযোগ দিতে হয়। আমার মনে হয়, সাংগঠনিক পরিবর্তনের দরকার। তাই এই বৈঠক হয়। দিল্লির এটা নিয়ে ভাবা উচিত। গ্রামের মানুষের কাছে প্রচার করতে হবে যে, ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা, সব কেন্দ্রের। সঠিক দিশা দেখাতে পারলে হবে, নইলে পুরো ফেল করে যাব।”



