নজরবন্দি ব্যুরোঃ তিন দফায় ৪৪৮ দিন ধরে গান্ধী মুর্তির পাদদেশে আন্দোলনে বসে রয়েছেন চাকরি প্রার্থীরা। সরকারের তরফে শুধুমাত্র মুখে আশ্বাস মিলেছে। কিন্তু বাস্তবায়িত হয়নি কোনও প্রতিশ্রুতি। সোমবার চাকরিপ্রার্থীদের কাছে এসে রাজ্যের সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন সিপি(আই)এম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, রাজ্যে যারা বসে রয়েছে সেই সরকার ১০০ ভাগ ভুল ও অপদার্থ।
আরও পড়ুনঃ কেকের অনুষ্ঠানে বিপুল অর্থ এল কোথা থেকে? ইডির তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের


তাঁর কথায়, দীর্ঘ সময় ধরে কেউ ঘর ছেড়ে এসেছে। কেউ নিজের বাচ্ছাকে। গতবার আমি যখন এসেছিলাম তখন একটি মেয়ে বলল সে নিজের ৩ মাসের মেয়েকে রেখে এসেছে। আর সে কেঁদে চলল। আমি তখন ভাবলাম কোন লজ্জায় মুখ নিয়ে এদের কাছে যাবো। এরা মনে করে আমরা নেতা আমাদের কথায় সবকিছু চলে। যা চলছে রাজ্য সরকারে সেটা বুঝতে পারছে না। ভাবছে আমরা বললেই হয় যাবে।

সরাসরি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিবের বিরুদ্ধে তোপ দেগে সিপি(আই)এম নেতার মন্তব্য, আমি আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেছিলাম। আপনি আড়াই লক্ষ টাকা উপরি মাইনে পান। আপনি কী বুঝবেন গরিবের কথা। সারা জীবন যা পেয়েছেন, পেয়েছেন। চাকরী যাওয়ার পর আড়াই লক্ষ টাকা উপরি পান। আপনি এত বড় পদে থেকে মেয়ে ছেলেগুলোর কথা ভেবে জলের ব্যবস্থা, বাথরুমের ব্যবস্থা করতে পারলেন না। সারা রাজ্যে অমানবিকতা চলছে। তাঁর সাফ বক্তব্য, যারা এই অপরাধের জন্য দায়ি, তাঁদের শাস্তি হতেই হবে। তাঁদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া যাবে না।
অভিযোগ, প্রথম দফায় ডাক পেলেও স্কুল সার্ভিস কমিশন নম্বর ভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করেনি৷ ১:১.৪ অনুপাতে নিয়োগের গেজেটকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। মেধাতালিকায় সামনের দিকে নাম থাকলেও নিয়োগ পাননি বহু প্রার্থী। বরং তালিকায় নাম জুড়েছে মেধা তালিকায় পিছনে থাকা প্রার্থীদের৷ অভিযোগ, অবৈধভাবে নিয়োগ করা হয়েছে।



এই অভিযোগে ২০১৯ সালের মার্চ মাসে প্রেস ক্লাবের সামনে ২৯ দিন ধরে অনশন কর্মসুচি চালিয়ে যাচ্ছিলেন হবু শিক্ষকরা। সেখানে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ২০১৯ এর নির্বাচনের পরেই নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
সরকার ১০০ ভাগ ভুল ও অপদার্থ, তোপ সুজনের

সেই অভিযোগ তুলে বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের তিন বার বৃহত্তম অবস্থান বিক্ষোভ ও অনশন করতে হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে প্রেসক্লাবের সামনে ২৯ দিনের অনশন, ২০২১সালের জানুয়ারি থেকে সেন্ট্রাল পার্কের ৫ নম্বর গেটের সামনে ১৮৭ দিনের অবস্থান বিক্ষোভ ও অনশন। এরপর গত বছরের ৮ ই অক্টোবর থেকে ধর্মতলার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ধর্ণা। মাঝে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মিললেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এদিন ৪৪৮ দিনের মাথায় পড়ল আন্দোলনের দিনক্ষণ।







