নজরবন্দি ব্যুরোঃ মার্কশিটে অদলবদল করেছেন স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য। আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতে এই দাবি তুলে সুবীরেশের হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানাল সিবিআই। সিবিআইইয়ের স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ৩৮১ জনের নম্বর বাড়ানো হয়েছে সুবীরেশের নির্দেশেই। এরপরেই তাঁদেরকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সুবীরেশ, সাফ বক্তব্য সিবিআইয়ের।
সিবিআইয়ের বক্তব্য, স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তদন্তে নেমে একাধিক তথ্য হাতে পেয়েছে সিবিআই। যে সমস্ত তথ্য সিবিআই হাতে পেয়েছে তাতে আরও তদন্তের প্রয়োজন। সুবীরেশ ভট্টাচার্য জামিনে মুক্ত হলে তথ্য বিকৃত করতে পারেন। দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তির যাতে জামিন না হয় আদালতের কাছে সেই আবেদন জানান সিবিআইয়ের আইনজীবী।
সুবীরেশ ভট্টাচার্যের আইনজীবী জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল অসুস্থ। শরীরে একাধিক সমস্যা রয়েছে। জেলের খাবার খেতে পারছেন না। ডায়েট চার্ট মেনেই খাবারের অনুমতি দেওয়া হোক। একজন হেফাজতে থাকা ব্যক্তি কীভাবে তথ্য বিকৃত করতে পারেন? সিবিআই শুধুমাত্র বৃহত্তর ষড়যন্ত্র এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি এই দুই যুক্তি দেখিয়েই হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য, তৃণমূলের জমানায় সবচেয়ে বেশী সময় ধরে স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়রাম্যান পদে ছিলেন সুবীরেশ ভট্টাচার্য। গ্রেফতারির আগে অবধি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং হিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ সামলেছেন তিনি।
সিবিআই সূত্রে খবর, পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ট সুবীরেশ ভট্টাচার্য দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। যদিও সুবীরেশ ভট্টাচার্যের বারবার বক্তব্য ছিল, তাঁর আমলে দুর্নীতি হয়নি। কিন্তু গত ১৯ সেপ্টেম্বর সুবীরেশ ভট্টাচার্যের বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি মিলতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সুবীরেশ, সিবিআইয়ের বক্তব্য ঘিরে চাঞ্চল্য

হাই কোর্টে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চে রিপোর্ট পেশ করে সিবিআই। অভিযোগ, নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষায় বহু সাদা খাতা জমা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি নম্বর বাড়ানো হয়েছে গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি বিভাগেও। সেই তথ্য সামনে আসার পর থেকে চাঞ্চল্য শুরু হয়েছে। এখন আবার সুবীরেশের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের বিস্ফোরক মন্তব্য কার্যত ঘৃতাহুতি দিয়েছে।



