নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিজেপি প্রকাশ করা নারদ ভিডিও ডিলিট করেছিল কেন? রাজ্যের আমজনতার মুখে প্রশ্ন ছিল এটাই। ঘটনার সূত্রপাত বছর খানেক আগে। তখন দীর্ঘ দিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সবে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। যদিও তার ৩ বছর আগেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন মুকুল রায়। আর এই দুজনকেই দেখা গিয়েছিল বিজেপির পার্টি অফিসে ঘটা করে প্রকাশ করা নারদের স্টিং ভিডিও তে। পরে ধামা চাপা পড়ে যায় সব কিছু। কিন্তু সেই তদন্ত আবার মাথা চাড়া দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বেআইনিভাবে চলত পাথর পাচার, রাজ্যের কাছ থেকে রিপোর্ট চাইল হাই কোর্ট


সময়টা ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কাল। ভোট ময়দানে নারদ স্টিং অপারেশনের ভিডিয়ো ফুটেজগুলি ছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রচারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। বিজেপির রাজ্য দফতরে সাংবাদিক সম্মেলন করে বেশ নাটকীয় কায়দায় ওই ভিডিয়ো ফুটেজগুলি দেখিয়েছিলেন রাজ্য দলের তৎকালীন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সিদ্ধার্থনাথ সিংহ।

কিন্তু রাজনীতির মারপ্যাঁচে সেই নারদ-কাণ্ডে অভিযুক্ত মুকুল রায় এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়কে বিজেপি আগেই দলে নিয়েছে। মুকুলবাবু ২০১৭ সালে এবং শোভনবাবু ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। যদিও তার পরেও নারদ-কাণ্ডের ভিডিয়ো বিজেপির ইউটিউব চ্যানেলে থেকে গিয়েছিল। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভামঞ্চে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে তা মুছে দেওয়া হয়।



কিন্তু ‘২১ এর নির্বাচনে ভোট প্রচারে যে সমস্ত কথা উঠেছিল তা আবার নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। ‘ভাইপো তোলাবাজ’ এই শব্দ বন্ধনী প্রয়োগ করে যখন অভিষেক বন্দোপাধ্যায় কে নিশানা করা হচ্ছে তখন, দলের একাধিক নেতাকে বিড়ম্বনায় ফেলে ‘জবাব’ দিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। কি বলেছিলেন? ‘নারদার ভিডিয়োতে খবরের কাগজে মুড়ে কাকে টাকা নিতে দেখা গিয়েছে? বলছে তোলাবাজ ভাইপো হঠাও। আরে তোমাকে নারদায় টাকা নিতে দেখা গেছে, তোলাবাজ তো তুমি। সারদাতেও তোমার নাম রয়েছে! আমি সারদাতেও নেই, নারদেও নেই।’
‘নারদে তৃণমূলের যে নেতাই গ্রেফতার হোন না কেন, শুভেন্দু যেন ছাড় না পায়।’

এইবার সমস্যা হল, নারদে শুধু শুভেন্দু নয় টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল একগুচ্ছ তৃণমূল নেতাকে যার মধ্যে আছেন সৌগত রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মদন মিত্ররা। সাথে স্যান্ডো গেঞ্জি পরে নারদের ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল ফিরহাদ হাকিমকেও, টাকাটা নিজের সাঙ্গপাঙ্গদের দিতে বলে ভিডিওকারীকে তিনি বলেছিলেন, আমি ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করিনা!
এতদিন পরে আবার ধুলো সরেছে নারদের ফাইল থেকে। তৎপর হয়েছে সিবিআই। নোটিশ দেওয়া হয়েছে ববি হাকিমকে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের স্ট্যান্ড কি? সূত্রের খবর, যারা দোষ করেছে তাঁদের শাস্তি হোক। আর ববিকে যদি তলব করা হয় তাহলে শুভেন্দুকেও তলব করতে হবে। তৃণমূলের যেই থাকুক নারদে, অপরাধ প্রমান হলে তাঁরা শাস্তি পাক, কিন্তু শুভেন্দু যেন ছাড় না পায়।







