নজরবন্দি ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের পড়ুয়া স্বপ্নদীপ কুণ্ডুর রহস্যমৃত্যুর পর কেটে গিয়েছে বেশ কয়েকদিন। কীভাবে হস্টেলের ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হল এখনও জানা যায়নি। পরিবারের তরফে র্যাগিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ তদন্তে নেমে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। এবার এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করল ইউজিসি। আগামী সপ্তাহেই রাজ্যে আসছে অ্যান্টি র্যাগিং টিম। আগামী সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: স্বপ্নদীপ কুন্ডুর মৃত্যু রহস্যের কিনারা হবে শীঘ্রই, ‘ভরসা’ দিলেন বিনীত গোয়েল
দেশের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে একটি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। এমন একটি নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে র্যাগিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে পড়ুয়াদের! এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন ইউজিসি। জানা গিয়েছে, প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার মৃত্যুর পর একাধিক অভিযোগ ইউজিসি-র কাছে জমা পড়েছে। তার ভিত্তিতেই একটি বিশেষ দল রাজ্যে আসছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। সেই রিপোর্ট জমা দেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি বৈঠকে বসছে। গত বুধবার রাতে যাবদপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র স্বপ্নদীপ কুণ্ডুর রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়। মেন হোটেলের নীচে নগ্ন অবস্থায় তার রক্তাত্ত দেহ উদ্ধার হয়।

পরিবারের তরফে অভিযোগ, র্যাগিংয়ের শিকার স্বপ্নদীপ। ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিহত পড়ুয়ার বাবার সঙ্গে কথা বলেছেন। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এরপরই পুলিশ তদন্তে নেমে সৌরভ চৌধুরী নামে এক প্রাক্তনীকে গ্রেফতার করে। স্বপ্নদীপের মৃত্যুতে জড়িত থাকার সন্দেহে শনিবার যাদবপুরের ১০ থেকে ১২ জন পড়ুয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আরও দুজন পড়ুয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত দুই পড়ুয়ার নাম মনোতোষ ঘোষ (২০) এবং দীপশেখর দত্ত (১৯)। মনতোষের ঘরেই স্বপ্নদীপকে গেস্ট হিসেবে রাখা হয়েছিল বলে খবর। উল্লেখ্য, নিহত পড়ুয়ার বাবা সৌরভ চৌধুরী ছাড়াও এই মনতোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন। ঘটনার দিন রাতে কী কী হয়েছিল, পুলিশকে কি আটকানো হয়েছিল, এমনই নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।


রবিবার নিহত পড়ুয়া স্বপ্নদীপ কুণ্ডুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশন। কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী রবিবার নদিয়ায় স্বপ্নদীপের বাড়িতে গিয়েছেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এছাড়া প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার মৃত্যুকে পকসো আইনের অধীনে আনার দাবি করে কমিশন।
যাদবপুরকাণ্ডে হস্তক্ষেপ UGC-র, রাজ্যে আসছে অ্যান্টি র্যাগিং টিম










