সাত রাজ্য বেশি কর দিলেও কম ফেরত পায় কেন্দ্র থেকে, রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর বৈষম্যের ছবি

মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, হরিয়ানা-সহ একাধিক রাজ্য কেন্দ্রকে বেশি কর দিলেও তুলনায় কম আর্থিক বরাদ্দ পাচ্ছে—রাজ্যসভায় দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এল এমনই চিত্র।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দেশের কেন্দ্র-রাজ্য আর্থিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করল রাজ্যসভায় পেশ করা এক পরিসংখ্যান। কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্য হিন্দু জানিয়েছে—ভারতের সাতটি রাজ্য যে পরিমাণ কর কেন্দ্রকে দেয়, তার তুলনায় অনেক কম টাকা তাদের ফেরত দেওয়া হয়। বিপরীতে এমনও কয়েকটি রাজ্য আছে, যারা কম কর প্রদান করেও বরাদ্দ হিসেবে কেন্দ্রের কাছ থেকে অধিক অর্থ পেয়ে থাকে।

কোন রাজ্য কত কর দিল, কত ফেরত পেল—উঠল বৈষম্যের ছবি

অর্থ মন্ত্রক যে পরিসংখ্যান রাজ্যসভায় জমা দিয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে—
গত পাঁচ অর্থবর্ষে (২০২0–21 থেকে ২০২4–25) কেন্দ্রীয় কর সংগ্রহের মোট অঙ্কের ৪.৬% এসেছে উত্তরপ্রদেশ থেকে। কিন্তু প্রাপ্য হিসাবের অংশে ১৫.৮% অর্থ ফেরত গেছে উত্তরপ্রদেশেই। অর্থনীতিবিদদের মতে, জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং সামাজিক সূচকের ভিত্তিতেই উত্তরপ্রদেশ তুলনামূলক বেশি বরাদ্দ পেয়েছে।

একই তালিকায় বিহার, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থানও রয়েছে—এই রাজ্যগুলি কম কর দিয়েও কেন্দ্র থেকে বেশি আর্থিক প্রাপ্য পেয়েছে।

সাত রাজ্য বেশি কর দিলেও কম ফেরত পায় কেন্দ্র থেকে, রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর বৈষম্যের ছবি
সাত রাজ্য বেশি কর দিলেও কম ফেরত পায় কেন্দ্র থেকে, রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর বৈষম্যের ছবি

কে সবচেয়ে বেশি কর দিলেও কম পায়? তালিকার শীর্ষে মহারাষ্ট্র

অন্যদিকে, বেশি কর দিয়ে কম অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বৈষম্য দেখা যাচ্ছে মহারাষ্ট্রে
পরিসংখ্যান বলছে—

একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হরিয়ানা, তামিলনাড়ু, তেলঙ্গানা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য গুজরাতও।

অর্থনীতিবিদদের মতে, শিল্পসমৃদ্ধ রাজ্যগুলির অর্থনৈতিক অবদান বিপুল হলেও কেন্দ্রীয় নীতি অনুযায়ী জনসংখ্যা, আয়তন, উন্নয়ন সূচকসহ নানা মানদণ্ডে হিসেব করেই বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়—ফলে এই বৈষম্য তৈরি হয়।

প্রাপ্য নির্ধারণের মানদণ্ড কী বলে কেন্দ্র?

রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজা মুন্ডে জানিয়েছেন—
পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ীই রাজ্যগুলির প্রাপ্য নির্ধারণ করা হয়। এই সুপারিশে মোট ছ’টি মানদণ্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়—

  • রাজ্যের জনসংখ্যা

  • ভৌগোলিক আয়তন

  • জনবিন্যাসের প্রকৃতি

  • পূর্ববর্তী পারফরম্যান্স

  • উন্নয়ন সূচক

  • এবং অন্যান্য আর্থিক পরামিতি

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন—রাজ্যের কেন্দ্রীয় কোষাগারে দেওয়া করের পরিমাণকে পঞ্চদশ অর্থ কমিশন আলাদা মানদণ্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেনি। ফলে কোন রাজ্য কত কর দিচ্ছে—তা বরাদ্দ নির্ধারণে সরাসরি প্রভাব ফেলে না।

ষোড়শ অর্থ কমিশনের সুপারিশে কি বদল আসবে?

২০২৬–৩১ অর্থবর্ষের বরাদ্দ কাঠামো নির্ধারণ করবে ষোড়শ অর্থ কমিশন
গত মাসে এই কমিশন তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে নতুন বরাদ্দ-হার কার্যকর হওয়ার কথা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যগুলির কর প্রদানের অঙ্ককে আরও গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে—যদি কমিশন তেমন সুপারিশ করে। সে ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কর বণ্টনের কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত