নজরবন্দি ব্যুরোঃ আগামী ২৯শে নভেম্বর ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। যেখানে মূল অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকার কথা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। কিন্তু বিজেপির এই বঞ্চনা সমাবেশে অনুমতি দেয়নি পুলিশ। কিন্তু আদালতের তরফে সভা করার অনুমতি মিলেছে। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এজলাস সাফ জানায়, স্বাধীন রাষ্ট্রে সভা করার অনুমতি সবার। এবার সিঙ্গেল বেঞ্চের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হল রাজ্য সরকার।
আরও পড়ুনঃ ফের রাজ্য সরকারকে নিশানা শুভেন্দুর, বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলনের খরচ নিয়ে প্রশ্ন বিরোধী দলনেতার!


১০০ দিনের কাজ থেকে শুরু করে নানান কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বাংলার মানুষকে। এই বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত অব্যাহত। এর আগে দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিরঞ্জন জ্যোতির সঙ্গে দেখা করে বঞ্চিতদের এক লক্ষ চিঠি তুলে দিতে চেয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও মন্ত্রী দেখা না করায় দিল্লিতে শুধুমাত্র ধর্না কর্মসূচিতে অংশ নিয়েই কলকাতায় ফিরে আসেন রাজ্যের শাসকদলের প্রথম সারির নেতা।

এরপর রাজভবনের সামনে চার দিন ব্যাপী চলে ধর্না। শেষমেষ রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসে হাতে সেই সমস্ত চিঠি তুলে দিয়ে ধর্না শেষ করে তৃণমূল। তার ঠিক পরেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে বাংলার মানুষদের বঞ্চনার নেপথ্যে রয়েছে রাজ্য সরকারের গাফিলতি। নন্দীগ্রামের বিধায়ক আরও বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে রাজ্য সরকার নিজের উন্নয়ন প্রকল্প হিসাবে চালাতে চাইছে।


তৃণমূলের ধর্না কর্মসূচির পাল্টা প্রতিবাদের পরিকল্পনা করে বঙ্গ বিজেপি। সেক্ষেত্রেও শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কলকাতায় এক লক্ষ বঞ্চিতদের নিয়ে সমাবেশ করবে বিজেপি। তারিখ স্থির করা হয় ২৯শে নভেম্বর। আর জায়গাটিও বেশ উল্লেখযোগ্য। বরাবর তৃণমূল কংগ্রেস একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ যে জায়গায় করে থাকে অর্থাৎ ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে, সেখানেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে এসে সমাবেশ করতে চায় বিজেপি।

ধর্মতলায় বিজেপিকে সভার অনুমতি সিঙ্গেল বেঞ্চের, পাল্টা প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ রাজ্য
কিন্তু দু’বার কলকাতা পুলিশের তরফে বিজেপির সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। কারণও উল্লেখ করা হয়নি। সোমবার বিজেপির দায়ের করা মামলায় বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা মামলার শুনানিতে পুলিশের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি অবাক হচ্ছি আপনাদের আপত্তি জানানো দুটি চিঠির বয়ান দেখে। এটা তো স্বাধীন রাষ্ট্র। এখানে তো সবার এমন সভা করার অধিকার আছে। দু’টো অনুমোদন বাতিলের চিঠি দিয়েছে পুলিশ। একটাতেও আপত্তির কারণ পর্যন্ত উল্লেখ করা নেই। খুব বিস্মিত হচ্ছি পুলিশের এমন জবাবে। কী শর্ত দেবে সেটা পুলিশ ঠিক করুক। কিন্তু অনুমতি দিতে হবে পুলিশকে।”








