নজরবন্দি ব্যুরো: প্রথম ৪ দফায় খারাপ ফলের আশঙ্কা বিজেপির, সূত্রের খবর এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রিপোর্ট। আর ডেলি প্যাসেঞ্জারি করেও ফল আশানুরূপ হওয়ার সম্ভাবনায় বিরক্ত শাহ্ দুষছেন বিজেপির রাজ্য নেতাদেরই। খবর এমনটাই যে, বিরক্ত শাহ্ ফোন করে শেষ মুহূর্তে ভার্চুয়ালি শেখাচ্ছেন ‘হোয়াট টু ডু অর নট।’ বাংলার ২১এর নির্বাচন নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী গেরুয়া শিবির। একেবারে প্রথম থেকেই জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছে গোটা বাংলা জুড়ে।
আরও পড়ুনঃ কমছে সুস্থতার হার, বাংলায় ভয়ঙ্কর থেকে ভয়ঙ্করতম হচ্ছে করোনা পরিস্থিতি।
শুধু রাজ্যের নেতা মন্ত্রীরা নয়, তৃণমূল কংগ্রেসকে রুখতে একেবারে মানুষের মনের কাছে পৌঁছে যেতে দিল্লি থেকে নিয়ম করে বাংলায় উড়ে এসেছেন কেন্দ্রীয় নেতা মন্ত্রীরা। খোদ অমিত শাহ্ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পাখির চোখ বিজেপির বাংলা। গত লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বেশ ভালো ফল করে সিপিএম কে সরিয়ে বাংলায় বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি। তার পর ভোট আবহের একেবারে শুরুতেই রীতিমত দল করে তৃণমূল থেকে একাধিক প্রথম সারির নেতা মন্ত্রীরা যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। সব মিলিয়ে বিজেপির ২১এর বাংলা জয়ের লক্ষ্য পরিণত হয়েছে বিশ্বাসে। ভোট শুরুর আগে থেকে এই পঞ্চম দফার ভোটের মুখে দাঁড়িয়েও বিজেপির সকল নেতারা সভা মঞ্চ থেকে বলে যাচ্ছেন ২০০+ আসন পেয়ে সরকার গড়বেন তাঁরাই। এমনকি দলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে গত ৪দফার ভোটের মধ্যে ১০০ আসন জিতে বেশ কয়েক কদম এগিয়ে আছে ভারতীয় জনতা পার্টিই।
তবে সূত্রের খবর দলের অন্দরে এই মুহূর্তে হওয়া একটু অন্যরকম। জানা যাচ্ছে দলের নেতা মন্ত্রীরা সভা থেকে ১০০+ জিতে এগিয়ে থাকার বার্তা দিলেও, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে অন্য কথা। এবং তাতেই চটেছেন শাহ্। প্রথম ৪ দফায় খারাপ ফলের আশঙ্কা করছে গেরুয়া বাহিনী। জঙ্গলমহল এবং উত্তরবঙ্গের ওপর লোকসভা ভোটের রেজাল্ট এবং নিজেদের কাজের ওপর ভরসা রাখছিল বিজেপি, কিন্তু রিপোর্ট বলছে অন্য কথা। আর সেই কারণেই শোনা যাচ্ছে গত শনিবার জরুরি ভিত্তিতে রাজ্যের চার নেতাকে ফোন করে সতর্ক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বাকি ৪ দফার আগে শুধরে যেতে দলের নেতা মন্ত্রী কর্মীদের। দূরে থাকতে বলেছেন বিতর্কিত মন্তব্য থেকে।
গত কয়েকদিন আগেই তৃণমূলের এক নেতা বলেছিলেন বিজেপির নেতারা বাংলার মানুষের পালস্ বুঝতে পারেন না, সূত্রের খবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রিপোর্টও বলছে সেকথাই। তবে শাহ্ টিপস্ নিয়ে বিজেপির তরফ থেকে জানানো হয়েছে নেতাদের বার্তা দেওয়া হয়েছে, যে কারণে তৃণমূলের ওপর মানুষ বিরক্ত হয়ে বিকল্প খুঁজছেন, সেই একই কারণের ছায়া যেনো না পড়ে দলের ওপর। তাতে ফস্কে যাবে বাংলার ম্যাজিক ফিগারের আসন-ক্ষমতা এবং শাসনের বাসনা। তিনি বলছেন দ্রুত বদলাতে হবে রাজ্য বিজেপির ভোট স্ট্র্যাটেজির নকশা। আত্মবিশ্বাসী না হয়ে আর একটু বিনয়ী হতে হবে নেতাদের। এবং বলা হয়েছে ধমকিতে নয়, ভোট আনতে হবে ভিক্ষা করে। সবশেষে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ভোটের পর রং চড়িয়ে এগিয়ে থাকার বার্তা যেনো পাঠানো না হয় দিল্লিতে।
সূত্র বলছে শুধু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রিপোর্ট নয়, এই গুঞ্জন ঘুরছে দলের আনাচে কানাচে। যে উত্তরবঙ্গ আর জঙ্গলমহলের ওপর পা দিয়ে মাথা তুলেছিলো গেরুয়া শিবির, সেখানের মাটিতে এবার খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি দল। সমীক্ষা বলছে ২০০+ নিয়ে নিজেরাই আলোচনা করছেন রাজ্য নেতারা। তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এ বিষয়ে সরাসরি কিছু জানাননি। তাঁর মতে, অমিত শাহ্ দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা, ভোটের বিষয়ে আলোচনা করেছেন, তবে সব কথা খুলে সংবাদমাধ্যমকে বলতে রাজি হননি তিনি।



