নজরবন্দি ব্যুরো: ছোটবেলায় অতি দারিদ্রতা ও নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে পরবর্তীতে সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে পৌঁছেছেন বিশ্ব ইতিহাসে এমন নজির ভুরি ভুরি। কর্ম ক্ষেত্রের সব অঙ্গনে এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে। তবে চরম দারিদ্র্য জয় করে সাফল্যের চূড়ায় ওঠার সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন ফুটবল। বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের সেরা ফুটবলারদের বেশিরভাগই ছিলেন গরিব ঘরের সন্তান।
আরও পড়ুন: Richarlison: দারিদ্র্য প্রতিকূলতা জয় করা বিশ্বসেরা তারকার গল্প
তাদের একজন হলেন লুইস সুয়ারেজ। কুলির ছেলে সুয়ারেজের জীবনের চিত্রটা বদলে দিয়েছিল ‘ভালোবাসা’! বিশ্ব বিখ্যাত ফুটবলার উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজ। বাবা সান্দা দিয়াজ ছিলেন একজন অভিবাসী। করতেন কুলির কাজ। সুয়ারেজরা ছিলেন ৭ ভাই-বোন। কুলির কাজ করে ৯ সদস্যের পরিবার চালানো কতটা কঠিন, সেটি সহজেই অনুমেয়। ছেলে-মেয়েদের কোনো চাহিদাই পূরণ করতে পারতেন না তার বাবা। সখ পূরণ করা দূরের কথা, দু-বেলা দুটো মুঠো খাবারই জুটত না ছোট্ট সুয়ারেজদের।

ঠিক মতো খাবার না পেলেও ছোটবেলাতেই ফুটবলের প্রেমে পড়ে যান সুয়ারেজ। বুট কিনতে না পেরে খালি পায়েই রাস্তায় ফুটবল খেলতেন। যা করতেন ভালোও করতেন। রাস্তায় রাস্তায় খেলেই নিজের অমিয় ফুটবল প্রতিভার জানান দেন। স্থানীয় এক ক্লাবের স্কাউট দলে ডাকও পান; কিন্তু অভাবের ধাক্কায় প্রায়ই উদাসিন থাকতেন! অন্যমনস্ক হয়ে ঘুরে বেড়াতেন! পেটে খাবার না পড়লে কি আর ফুটবল খেলার টান থাকে!

৯ বছর বয়সে আরও বড় একটি ধাক্কা লাগে। বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটিয়ে আলাদা হয়ে যান তার বাবা-মা। ছোট্ট সুয়ারেজের জীবনে নেমে আসে আরও কষ্ট। এভাবেই গড়াতে থাকে সময়। অভাবের অন্ধকার গলি দিয়ে গড়াতে গড়াতে সুয়ারেজ পা রাখেন ১৫-তে। ভাগ্যদেবীর আশির্বাদে এই ১৫ বছর বয়সেই ঘুরে যায় সুয়ারেজের ভাগ্যের চাকা।

চাকাটা ঘুরিয়ে দেয় ‘ভালোবাসা’। হ্যাঁ, ভালোবাসাই পাল্টে দিয়েছে সুয়ারেজের জীবনের চিত্র। চরম দারিদ্রের সঙ্গে লড়াইয়ের মধ্যেই ১৫ বছর বয়সে তার জীবনে আসেন এক নারী। আসলে এক কিশোরী বলাই ভালো। সোফিয়া বালবী নামের ওই কিশোরীর প্রেমে মজে যান সুয়ারেজ।
সোফিয়া বালবীকে সুয়ারেজ এতটাই ভালোবেসে ফেলেন যে, একবার রাস্তায় কিছু কয়েন কুড়িয়ে পান তিনি। সেই কয়েন ভালোবাসার উপহার হিসেবে তুলে দেন প্রেমিকা সোফিয়া বালবীর হাতে। প্রতিদানে সোফিয়া বালবী প্রেমিক সুয়ারেজের জীবনের চাকাটাই পাল্টে দিয়েছেন।

সুয়ারেজের উদাসিন মনকে শান্ত করে ডুবিয়ে দেন ফুটবলের প্রতি একনিষ্ঠ ভালোবাসায়। সেই যে শুরু, বছর কয়েকের মধ্যেই সুয়ারেজ পৌঁছে যান খ্যাতির চূড়ায়। উরুগুয়ে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পাশাপাশি ডাক পেতে থাকেন ইউরোপের নামিদামি ক্লাবগুলো থেকে। ইউরোপে পাড়ি জমানোর মধ্যদিয়ে গরিব সুয়ারেজ বনে যান কোটিপতি।

আয়াক্স, লিভারপুল, বার্সেলোনার মতো ক্লাবে খেলা সুয়ারেজ বর্তমানে খেলছেন অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদে। নিশ্চিতভাবেই ৩৪ বছর বয়সী সুয়ারেজ বর্তমানের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড। ফুটবল সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে চাটাইয়ে শুয়ে লাখপতি নন, সুয়ারেজ এখন হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক! যার সংস্পর্শে জীবনের রঙ পাল্টে যাওয়া, সেই সোফিয়া বালবীর সংস্পর্শ এখনো ছাড়েননি সুয়ারেজ।
দারিদ্র্য প্রতিকূলতা জয় করা বিশ্বসেরা তারকার গল্প, আজ লুইস সুয়ারেজ

বরং ২০০৯ সালে সোফিয়াকে বিয়ে করে বেঁধেছেন সুখের ঘর। যে ঘর আলোকিত করেছে তাদের তিন সন্তান-মেয়ে দেলফিনা এবং দুই ছেলে বেঞ্জামিন ও লওতি।সুয়ারেজ কি নিজ সন্তানদের কাছে নিজের ছোটবেলার অভাবের কথা বলেন? বললে তা নিশ্চয় প্রবল বিলাসিতার মধ্যে বেড়ে ওঠা দেলফিনা, বেঞ্জামিন, লওতিদের কাছে রূপকথার গল্পের মতোই মনে হবে।



