নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজ্যজুড়ে মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে শিক্ষক দিবস। অন্যদিকে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি হয়নি। দুর্নীতির কারণে বঞ্চনার শিকার নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর এসএলএসটি চাকরি প্রার্থীরা। দেখতে দেখতে তাঁদের ধর্নামঞ্চ তিন দফায় ৫৪০ দিন পার করেছে। তাই শিক্ষক দিবসের দিনে যন্ত্রণা দিবস পালন করছেন তাঁরা।
আরও পড়ুনঃ SSC-TET Scam: আরও এক মিডলম্যানের হদিশ, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বিরাট পদক্ষেপ ইডির
শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে। রাজ্যজুড়ে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি। অন্যদিকে, দুর্নীতির কোপে প্রতিটি দিন প্রদীপের তলায় অন্ধকারের মতো কাটাচ্ছেন হবু শিক্ষকরা। এর আগে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে নিয়োগ নিয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিয়োগ হয়নি। পরে নিয়োগ নিয়ে চাকরি প্রার্থীরা দেখা করেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। আইনি জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছিলেন বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। কিন্তু সেটাও হয়নি। বরং হতাশার সঙ্গে দিন কাটাতে হচ্ছে চাকরি প্রার্থীদের।
যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের স্টেট কো-অর্ডিনেটর সুদীপ মন্ডল জানিয়েছেন যে রাজ্য জুড়ে একদিকে চলছে শিক্ষক দিবস কিন্তু অন্যদিকে আমাদের বঞ্চিত শিক্ষক-শিক্ষিকা পদপ্রার্থীগণ ধর্ণা মঞ্চেই বুকভরা ব্যথা আর চোখের জল নিয়ে যন্ত্রণা দিবস পালন করছেন। খুবই কষ্টে অতিবাহিত হচ্ছে ধর্ণারত বঞ্চিত চাকরি প্রার্থীদের প্রতিটি দিন। যাদের নিয়োগ অগ্রাধিকার ছিল, তাঁরা আজ বঞ্চিত হয়েছে, ধর্ণা চালিয়ে যাচ্ছেন। যারা সমাজ গঠনের কারিগর আজ তারা চোখের জলে ভাসছেন। কবে বঞ্চিত শিক্ষক-শিক্ষিকা পদপ্রার্থীগণ তাদের ন্যায্য চাকরি ফিরে পাবেন?

আবারও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কাছে জরুরিকালীন হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নবম-দ্বাদশের মেধাতালিকা ভুক্ত অথচ চাকরিতে নিয়োগপত্র না পাওয়া সকল শিক্ষক-্শিক্ষিকা পদপ্রার্থীদের অতি দ্রুত চাকরিতে নিয়োগ করতে হবে। তাদের জীবন থেকে মূল্যবান ছয়টি বছর নষ্ট হয়েছে। সামনে দুর্গাপূজা আসছে। বাংলার ঘরে ঘরে খুশির উৎসব পালিত হবে, শুধু আমরা চোখের জলে ভাসবো এমন যেন না হয়। দুর্গাপূজার আগেই মেধাতালিকা ভুক্ত অথচ চাকরি থেকে বঞ্চিত সকলকেই নিয়োগপত্র দিতে হবে।

রাজ্যের সাধারণ কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, খেটেখাওয়া পরিবার গুলির সন্তান। সেই পরিবার গুলির স্বপ্ন আজ ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। পরিবার গুলি তাদের জমি – জায়গা, অলঙ্কার,ঘটি-বাটি সর্বস্ব বিক্রি করে তাদের ছেলে-মেয়েদের এম.এ, বি.এড করিয়ে শিক্ষক- শিক্ষিকা তৈরির প্রচেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের ক্রমাগত দুর্নীতি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উক্ত পরিবার গুলির স্বপ্ন ভেঙে দিতে।
মেধাতালিকায় সামনের দিকে থেকেও চাকরিতে নিয়োগপত্র পাননি উক্ত পরিবার গুলির যোগ্য চাকরি প্রার্থীগণ কিন্তু মেধাতালিকা অনেক পিছনের দিকে থাকা বহু চাকরি প্রার্থীদের অবৈধভাবে নিয়োগ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। মেধাতালিকায় নাম নেই এমন ফেলকরা বহু প্রার্থীদের দুর্নীতি করে নিয়োগ করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন কর্তৃক। অথচ তাদের নিয়োগ অগ্রাধিকার ছিল,যারা যোগ্য , মেধাতালিকায় সামনের দিকে রয়েছে তাদের চাকরিতে নিয়োগ করা হয়নি।
দুর্নীতির কারণে বঞ্চনার শিকার, ৫৪০ দিন পার করল হবু শিক্ষকদের আন্দোলন

বরং সমস্ত প্রতিকুলতা উপেক্ষা করেই আন্দোলন চালিয়ে যেতে হচ্ছে তাঁদের। কখনও প্রবল বৃষ্টি, কখনও শহরের দাবদাহ, আবার কখনও কনকনে ঠান্ডা। নিজের কোলের শিশুকে নিয়ে মা এসেছেন আন্দোলনে। নেই পানীয় জলের ব্যবস্থা। নেই শৌচাগারের ব্যবস্থা। বরং প্রতিদিনের প্রতিশ্রুতি এখন শব্দমাত্র। আর কত দিনের অপেক্ষা? প্রশ্ন চাকরি প্রার্থীদের।



