নজরবন্দি ব্যুরো: রাজ্যের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারী কন্যা অঙ্কিতা অধিকারীর বিরুদ্ধে বেনিয়মে চাকরি পাওয়ার অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন ববিতা সরকার। তাঁর অভিযোগ প্রমাণিত হলে অঙ্কিতার চাকরি চলে আসে ববিতার হাতে। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই ববিতার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনামিকা রায়। ফের শুরু হয় মামলা। সেই মামলার জেরেই এবার খাতায় কলমে চাকরি হারালেন ববিতা সরকার। তাঁর সুপারিশপত্র বাতিল করল স্কুল সার্ভিস কমিশন অর্থাৎ এসএসসি।
আরও পড়ুন: ধ্বংস একাধিক কামরা, উপড়েছে রেললাইন, বালেশ্বর দুর্ঘটনায় ক্ষতির অঙ্ক জানেন?
গত ২৪ জুলাই পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর বেনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শিলিগুড়ির বাসিন্দা ববিতা সরকার। তাঁর অভিযোগ ছিল, ক্ষমতার বলে অন্যায়ভাবে চাকরি দখল করে রেখেছেন মন্ত্রী কন্যা। আদালতে ববিতা সরকারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। হাইকোর্টের নির্দেশে অঙ্কিতা অধিকারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। সেই চাকরি পান ববিতা সরকারি। এমনকি পরেশকন্যাকে চাকরির ৪৩ মাসের বেতন ববিতাকে ফেরত দিতেও বলা হয়েছিল। কয়েকদিনের মধ্যেই চাকরি পেয়েছিলেন ববিতা। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় একটি আলোচ্য না তিনি। মন্ত্রী কন্যার নিয়োগে দুর্নীতি ধরিয়ে দিয়েছিলেন নিজে হাতেই। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সব ওলটপালট।

ববিতা সরকারের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন ওই পদের অন্যতম দাবিদার অনামিকা রায়। তাঁর দাবি, ববিতার প্রাপ্ত নম্বর ৬০ শতাংশ না হওয়া সত্ত্বেও তিনি ফর্মে ৬০ শতাংশ লিখেছেণ। যে কারণে তাঁর অ্যাকাডেমিক স্কোর বেড়ে যায়। কিন্তু ববিতার থেকে অনামিকার নম্বর বেশি। এই মর্মেই ফের শুরু হয় মামলা। গত ১৬ মে হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ববিতার চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন। সেই চাকরি পান মামালকারিণী অনামিকা রায়। সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন ববিতা।

ববিতা সরকারের দাবি, এসএসসি ভুলবশত ৩ নম্বর অতিরিক্ত দিয়েছে। অন্যদিকে, অনামিকার আইনজীবীর দাবি, স্নাতকে শতাংশের হারে ৫৫ নম্বর পেয়েছেন ববিতা সরকার। কিন্তু আবেদনে লিখেছেন ৬০ শতাংশ। সেই কারণেই অ্যাকাডেমিক স্কোরে বাড়তি ২ নম্বর পেয়েছেন তিনি। গতবছর এসএসসি চেয়ারম্যান আদালতে জানিয়েছিলেন, ববিতা সরকারের টেস্ট নম্বর ৩৬, অ্যাকাডেমিক স্কোর ৩৩ আর পার্সোনালিটি টেস্টে প্রাপ্ত নম্বর ৮। সর্বমোট ৭৭। এরপরই এই তথ্যের ভিত্তিতে অঙ্কিতা অধিকারীর চাকি বাতিল হয় এবং মেখলিগঞ্জ ইন্দিরা গার্লস স্কুলে নিয়োগ হয় ববিতার।
মন্ত্রী-কন্যার চাকরি নিজের নামে করেছিলেন, বাতিল হল ববিতা সরকারের সুপারিশ পত্র




