দার্জিলিঙে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে শোভন-বৈশাখীর ২ ঘণ্টার বৈঠক, তৃণমূলে ফিরছেন?

দার্জিলিঙে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বৈঠক করলেন শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের আগে এই সাক্ষাতে জল্পনা তুঙ্গে— তবে কি তৃণমূলে ফিরছেন শোভন?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দার্জিলিঙ, ১৬ অক্টোবর: উত্তরবঙ্গ সফরের মাঝেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ালেন রাজ্যের প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় (Sovan Chatterjee)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দার্জিলিঙে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বৈঠক করলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর সঙ্গী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় (Baisakhi Banerjee)। এই সাক্ষাৎ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা— তবে কি ভোটের আগে শোভনের ঘরওয়াপসি হতে চলেছে?

উত্তরবঙ্গে মমতার সফর, তাতে যোগ শোভনের
উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ বন্যার পর দ্বিতীয়বার পাহাড় সফরে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দার্জিলিঙে প্রশাসনিক বৈঠক সেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হঠাৎই পৌঁছে যান শোভন ও বৈশাখী। তাঁদের আগমন নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও আগাম ঘোষণা করা হয়নি। সূত্রের খবর, মমতা ও শোভনের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে একান্ত বৈঠক হয়, যেখানে রাজ্য রাজনীতি, সংগঠন ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, মমতা নিজেই শোভনকে ডেকেছিলেন, আবার অন্য মহল বলছে, শোভনই নিজের ইচ্ছায় দার্জিলিঙে পৌঁছেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে সরকারি ভাবে কেউ মুখ খোলেননি। তবে তৃণমূলের অন্দরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চর্চা— এই সাক্ষাৎ কি শোভনের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে?

দল ছাড়ার পর থেকে সম্পর্কের উত্থান-পতন
একসময় কলকাতার মেয়র এবং রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু ২০১৯ সালে হঠাৎই তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। সেই সময় বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তবে বিজেপিতেও তাঁর সক্রিয়তা বেশিদিন টেকেনি। ধীরে ধীরে দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়।

তবু ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ কখনও সম্পূর্ণ ছিন্ন হয়নি। প্রতি বছর ভাইফোঁটার দিনে মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে আশীর্বাদ নিতে দেখা যায় শোভনকে। এবার দার্জিলিঙে তাঁদের এই সাক্ষাৎ সেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায় খুলল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

অভিষেকের সঙ্গে বৈঠকের পরেই নতুন পদক্ষেপ
গত ২৫ সেপ্টেম্বর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-এর সঙ্গে কালীঘাটে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেছিলেন শোভন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “অভিষেক যেভাবে কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন তা দেখে ভালো লেগেছে। আমিও দলে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে চাই।” সেই মন্তব্যের পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল। আর এবার দার্জিলিঙে মমতার সঙ্গে দেখা করায় সেই আলোচনা আরও তীব্র হল।

রাজনৈতিক অন্দরে গুঞ্জন— ঘরওয়াপসির সম্ভাবনা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজ্যে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনে পুরনো মুখদের ফেরাতে চাইছে তৃণমূল। সেই প্রেক্ষিতে শোভনের প্রত্যাবর্তন তৃণমূলের জন্য বড় রাজনৈতিক বার্তা হতে পারে। দলীয় সূত্রে খবর, মমতা ও অভিষেক— দুই নেতৃত্বই এখন “সমন্বয় ও পুনর্মিলন”-এর পথে হাঁটছেন।

অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরে নেমেছে অস্বস্তি। রাজ্য রাজনীতিতে একসময়ের প্রভাবশালী মুখ শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পুনরায় তৃণমূলে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে এখন তীব্র চর্চা চলছে।

দার্জিলিঙের পাহাড়ে নতুন রাজনৈতিক স্রোত
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরবঙ্গ সফর মূলত প্রশাসনিক হলেও, শোভন-বৈশাখীর আগমন একে দিয়েছে স্পষ্ট রাজনৈতিক মাত্রা। মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহল ইঙ্গিত দিয়েছে, “দলবদল নয়, এটি পুরনো সম্পর্কের পুনর্গঠন।” তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সাক্ষাৎই তৃণমূলের নির্বাচনী প্রস্তুতির নেপথ্যে নতুন বার্তা বহন করছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত