বিগত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আর জি কর ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডের প্রতিবাদে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান বিক্ষোভ করছেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা। এই মুহূর্তে এক সপ্তাহ পার হয়েছে সল্টলেকে স্বাস্থ্য ভবনের বাইরে চলছে তাদের ধর্না। এদিকে, সোমবারই জুনিয়র চিকিৎসক ফ্রন্টের সিংহভাগ দাবি মেনে নিয়েছে রাজ্য সরকার। আজ সেই সমস্ত দাবি পূরণও করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও এখনও কাজে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি জুনিয়র চিকিৎসকেরা। আজ সন্ধ্যেতে তাঁরা একটি জিবি বৈঠক ডেকেছেন। সেই বৈঠক থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জুনিয়র চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি তুলে নেবেন কিনা।
আর জি করের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল গোটা রাজ্য। বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন সমাজের সমস্তস্তরের মানুষ। অরাজনৈতিক এই গণআন্দোলনের জেরে কার্যত মাথা নোয়াতে বাধ্য হয়েছে রাজ্য। জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবি মেনে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তা সহ দুই স্বাস্থ্য অধিকর্তাকে। তা সত্ত্বেও কেন কর্মবিরতি তুলে নিচ্ছেন না জুনিয়র চিকিৎসকেরা? এবার তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন দমদমের তৃণমূল সংসদ সৌগত রায়।
সৌগত স্পষ্টভাবে বলেছেন, “জুনিয়র চিকিৎসকদের সমস্ত দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। দু’বার বৈঠক ভেস্তে গেছে। মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান কড়া হয়েছে। তাঁরা নিজেদের জেদে অনড়। আমাদের তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের উপর নির্দেশ ছিল কিছু না বলার। কিন্তু এবার আমাদের গায়ে জ্বালা ধরে গেছে। জুনিয়ার চিকিৎসকরা মনে করছেন, ওরা বিপ্লবী হয়ে গেছেন! ডাফরি বাজিয়ে ডিক্সো ডান্স করছে। ওদের দিন তো প্রায় ফুরিয়েই এল। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে চান্স পাওয়ার জন্য। আর না হলে নিজের পাড়ায় একটা চেম্বার করে বসতে হবে।”
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টে আর জি করের তৃতীয় শুনানিতেই জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে ফেরার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি। তবে জোর করে নয়। পাশাপাশি, আন্দোলন বন্ধের বিষয়েও কোনও মন্তব্য করেনি শীর্ষ আদালত। বরং আন্দোলনকে সমর্থনই করা হয়েছিল। আজ সুপ্রিম কোর্টের ছিল চতুর্থ শুনানি। সেখানেও এই কর্মবিরতির বিষয়টি উঠে আসে। তবে সুপ্রিম কোর্ট নতুন করে আর কোনও মন্তব্য করেনি। পুরোটাই জুনিয়র চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তের ওপর ছাড়া হয়েছে। রাজ্যের তরফে বলা হয়েছে, সমস্ত দাবি পূরণের কথা। জুনিয়র চিকিৎসক ফ্রন্টের আইনজীবী ইন্দিরা বলেছেন, হাসপাতালে এখনও ভয়ের পরিবেশ আছে, সমস্ত অপরাধীরা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি, তাই জুনিয়র চিকিৎসকরা সময় নিচ্ছেন।



