নজরবন্দি ব্যুরোঃ একদিকে মারন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই। লড়াই দুর্নীতির বিরুদ্ধে। এই চাকরিটা তাঁর প্রাপ্য ছিল। আন্দোলন মঞ্চে স্লোগান দেওয়া সকল সতীর্থদের সঙ্গেই এই সুখের স্বাদ ভাগ করে নিতে চেয়েছিল সোমা। কিন্তু আদালতের নির্দেশে সে একাই পেয়েছে চাকরি৷ সকলে চাকরি পেলেই এই যুদ্ধে জয় হবে তাঁর। নজরবন্দির সঙ্গে প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন সোমা দাস।
আরও পড়ুনঃ উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তির নিয়ম শিথিল, এবার ৩৫ শতাংশ নম্বর পেলেই ভর্তি যে কোনও শাখায়


প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা, সেটা এমনিতেই ভালো হওয়ার কথাই৷ প্রথম দিন স্কুল যাচ্ছি। কিন্তু সেটা অন্যের ক্ষেত্রে৷ আমার ক্ষেত্রে অন্য ব্যাপার৷ আমি তো এই চাকরির পরীক্ষাটা পাশ করেছিলাম ৪ বছর আগে। ২০১৮ সালে৷ কিন্তু দুর্নীতি কারণে আমি এবং আমার সঙ্গে প্রচুর লোক বঞ্চিত হয়েছেন। অনেকে টাকা-পয়সা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি মারফত চাকরিটা পেয়েছেন। আমরা কিন্তু পাইনি।
আমরা এর বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন এবং সংঘবদ্ধ লড়াই চালিয়ে গেছি৷ আমি জানিনা আমি কিভাবে হাইকোর্টের নজরে এসেছি। আজ আমার চাকরির জন্য বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এবং আন্দোলন মঞ্চে যারা রয়েছে, সকলকে ধন্যবাদ জানাই। আমার এই চাকরিটা পেয়ে আনন্দ হচ্ছে না। যাদের জন্য চাকরিটা পেলাম, তারা গান্ধী মুর্তির পাদদেশে এখনও বসে রয়েছে। যদি সবার সঙ্গে আমার নিয়োগ হত তাহলে ভালো হত৷ কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশকে অমান্য করতে পারি না৷ কারণ মামলা করেই চাকরিটা হয়েছে। সেটা আমার চাকরি তাই আমি ছাড়তে পারব না।

শুধু একটা কথায় বলতে চাই, আমাদের যাদের নিয়োগ তালিকায় নাম রয়েছে, নবম থেকে দ্বাদশ অবধি তাদের জন্য ৫২৬১ টি আসন বন্টন করা হয়েছে। সেটা সকলের জন্য নগন্য৷ আমার হাইকোর্টের সুপারিশে চাকরি হয়েছে। তাই আমার আদালতের কাছে এবং সরকারের কাছে আবেদন, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর নিয়োগ তালিকায় নাম থাকা সকলকে দ্রুত নিয়োগ করতে হবে। আমার জন্য শুধু নয়৷



একজনকে চাকরি পাইয়ে দিলে অথবা সরিয়ে দিলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এমনটা কিন্তু একেবারে নয়৷ আমি যেমন বলছি এটা আমার চাকরি, তেমনই বাকিদের চাকরি যেন দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া হয়৷ এই আবেদন আমি কলকাতা হাইকোর্ট, সরকার এবং মাননীয়ার কাছে বারবার জানাচ্ছি। কিছু সংখ্যক নিয়োগ করলে এই আন্দোলন বৃহত্তর আন্দোলবে পরিণত হবে।

আজ আমি যখন স্কুলে যাই তখন ওদের মুখগুলো মনে পড়ছে। কারণ, ওরা ছিল বলেই আজ চাকরিটা আমি পেয়েছি। ওদের অবদান সবথেকে বেশী। আমি ওদের চাকরি দেওয়ার কেউ নই। ওদের সঙ্গে আছি। অনেকে অনেক রকম কথা বলছে৷ আমি চাই হাইকোর্ট আমার চাকরি যেমন ফিরিয়ে দিয়েছে, ওদের চাকরিও ফিরিয়ে দেওয়া হোক৷

এই চাকরিটা আমার প্রাপ্য, কিন্তু সরকারের জন্য বঞ্চনার শিকার, নজরবন্দিকে জানালেন সোমা
আরও একটা কথা বলব, এই চাকরিটা দয়ার দান নয়৷ এই চাকরিটা আমাদের প্রাপ্য৷ এই চাকরীটা আমার চার বছর আগে পাওয়ার কথা ছিল৷ তখন আমি ক্যান্সার আক্রান্ত ছিলাম না। আমার ক্যান্সার ধরা পড়ে ২০১৯ সালে৷ আমি ২০১৮ সালে পাশ করেছি৷ এটা আমার প্রাপ্য৷ কিন্তু সরকারের বঞ্চনার কারণে স্ট্যাম্প লেগে গেল আমি ক্যান্সার আক্রান্ত। তাই চাকরি পেয়ে গেছি। ৪ বছর আগে এটা আমার পাওয়ার কথা৷







