নজরবন্দি ব্যুরোঃ শরীরে মারন রোগ। প্রতিনিয়ত লড়াই চলছে বেঁচে থাকার জন্য। তবুও সতীর্থদের সঙ্গে থেকে আন্দোলন মঞ্চকে উজ্জীবিত করে চলেছিলেন সোমা দাস। অবশেষে স্কুল শিক্ষিকার চাকরী পেলেন তিনি। বীরভূমের নলহাটি-১ ব্লকের মধুরা হাই স্কুলে বাংলার শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে সোমাকে। তবুও চাকরী পেয়ে মোটেই খুশি নন সোমা।
আরও পড়ুনঃ ফের কাশ্মীরি পণ্ডিতের হত্যা ভূস্বর্গে, এবার জঙ্গিদের শিকার এক হিন্দু শিক্ষিকা
তিনি জানিয়েছেন, এই চাকরি আমার অধিকার। এর আগে মাননীয় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় আমায় ডেকে চাকরির কথা বলেছিলেন। আমার মনে হয়েছিল, সেটা সহানুভূতি। কিন্তু আমি তো শিক্ষকতার জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছি। আমরা যারা প্রায় ৪৫০ দিন ধরে আন্দোলন করছি, সকলকে চাকরী দিলে বেশী খুশি হতাম।

সোমা আরও বলেন, এই চাকরি পেয়ে আমি আনন্দিত নই। যোগ্যদের এখনও অনেকের চাকরি হয়নি। তাঁরা আন্দোলনে রয়েছেন। তাঁদের নিয়োগ হলে সেদিন আমার আনন্দ হবে। নলহাটির মধুরা হাইস্কুলে বাংলার শিক্ষিকা পদে নিযুক্ত হয়েছে সোমা।
স্কুল সার্ভিস কমিশনের নবম এবং দশম বিভাগে স্বচ্ছ নিয়োগের দাবীতে ধর্নায় বসেছেন হবু শিক্ষকরা। তাঁদের বক্তব্য, নিয়োগ তালিকায় তাঁদের নাম থাকলেও চাকরী পাননি কেউই। এরই মধ্যে ক্যান্সার আক্রান্ত সোমার খবর পান কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সোমা অন্য কোনও চাকরীর জন্য ইচ্ছুক কই না? তা জিজ্ঞাসা কএন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
এই চাকরি পেয়ে আমি আনন্দিত নই, অভিযোগ সোমার

ভরা আদালতে সেবার সোমা জানিয়েছিলেন, আমি যোগ্য প্রার্থী। শিক্ষকতাই করব, অন্য কিছু নয়। চাকরি নিয়ে আন্দোলন থেকে সরে যাব না। ভবিশ্যতে যদি কোনও সরকারী কুলে শূণ্যপদ থাকে তাহলে তা ওমাকে দিতে হবে। জানান বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ক্যান্সার আক্রান্ত সোমার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ১৫ লক্ষ টাকার। টাকা না পেলে চিকিৎসা সম্ভব নয়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ পাওয়ার পরেই সোমাকে সুপারিশপত্র পাঠিয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন।



