বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন বিতর্কে জড়ালেন অভিনেতা-রাজনীতিক Soham Chakraborty। তাঁর বিরুদ্ধে ৬৮ লক্ষ টাকার ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন অভিনেতা-রাজনীতিক Shahid Imam। অভিযোগ, ঋণের সামান্য অংশ ফেরত দিয়ে বাকি টাকা মেটাননি সোহম। যদিও এই অভিযোগের জবাবে সব দায় অস্বীকার করে পাল্টা ‘কালিমালিপ্ত করার চক্রান্ত’-এর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
শাহিদ, যিনি অভিনয়জগতে ‘শুভম’ নামে পরিচিত, দাবি করেছেন ২০২১ সালে সোহম তাঁর কাছ থেকে ৬৮ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি তৃণমূলের যুবনেতা ছিলেন বলেও জানিয়েছেন শাহিদ।


তাঁর অভিযোগ, ২০২৩ সালে জেল থেকে জামিনে মুক্তির পর তিনি সোহমের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা ফেরতের দাবি জানান। তখন দুই দফায় মোট ২৫ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়া হলেও বাকি টাকার বিষয়ে আর কোনও উদ্যোগ নেননি সোহম।
শাহিদের দাবি, একাধিকবার পুরো টাকা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তাতে সাড়া মেলেনি। উল্টে তিনি নাকি হুমকির মুখে পড়েছেন। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে সোমবার হাই কোর্টে ঋণখেলাপির মামলা দায়ের করেন এবং মঙ্গলবার চারু মার্কেট থানায় লিখিত অভিযোগ জানান।
অভিযোগের জবাবে সোহম ঋণ নেওয়ার কথা অস্বীকার করেননি। তিনি জানান, ২০২১ সালে ‘পাকা দেখা’ ছবির জন্যই ওই টাকা ধার নিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “৬৮ লক্ষ টাকা নিয়েছিলাম ঠিকই। কিন্তু শাহিদের আরও কিছু টাকা দেওয়ার কথা ছিল, পরে সেটা দেননি। তখন অন্য জায়গা থেকে বাকি টাকা জোগাড় করি।”


সোহমের দাবি, ইতিমধ্যেই ২৫ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ৪৩ লক্ষ টাকাও মিটিয়ে দেবেন বলে তিনি বারবার জানিয়েছেন। তবে কয়েকটি ছবি আটকে থাকায় আর্থিক সমস্যার কারণে পুরো টাকা একসঙ্গে শোধ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি তাঁর।
হুমকির অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। সোহম বলেন, “আইনি নোটিস পেয়েছি। আমার আইনজীবী বিষয়টি দেখছেন। ওঁরা আইনি পথে হাঁটলে আমিও আইনি পদক্ষেপ করব।” একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে পরিকল্পিত ভাবে তাঁকে বদনাম করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে, কারণ সামনে বিধানসভা নির্বাচন। শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।








