রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগে ফের টানটান উত্তেজনা। সেকেন্ড এসএলএসটি (SLST) নিয়োগে অভিজ্ঞতার জন্য বরাদ্দ ১০ নম্বর প্রাথমিক মেধা তালিকায় যুক্ত করা হবে কি না—এই প্রশ্নে আজ, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, কলকাতা হাইকোর্টের রায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নতুন নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে ইন-সার্ভিস ও ফ্রেশার প্রার্থীদের মধ্যে যে টানাপোড়েন, তার ফয়সালা হতে চলেছে আজই।
আজকের শুনানির গুরুত্ব
আজ হাইকোর্টের ১৮ নম্বর এজলাসে, মাননীয়া বিচারপতি অমৃতা সিনহা-র সিঙ্গেল বেঞ্চে সেকেন্ড এসএলএসটি সংক্রান্ত একগুচ্ছ মামলার শুনানি রয়েছে। ‘কজ লিস্ট’ অনুযায়ী লুবানা পারভীন বনাম রাজ্য সরকার (WPA 12434/2025) মামলাটি ১৯ নম্বর সিরিয়ালে রয়েছে। এর সঙ্গে মৌসুমী ঘোষ ও শিশির দাস-সহ একাধিক মামলা একত্রে শোনা হবে। মামলাকারীদের পক্ষে সওয়াল করবেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। এই শুনানির রায়েই নির্ধারিত হবে—মেধা তালিকায় কারা কতটা সুবিধা পাবেন।


১০ নম্বরের বিতর্ক কোথায়?
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু SSC 2025-এর নতুন গেজেট। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইন্টারভিউয়ের আগেই প্রার্থীদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ১০ নম্বর যোগ করা হবে। কমিশনের যুক্তি—২০১৬ সালের বাতিল হওয়া নিয়োগে চাকরি হারানো শিক্ষকদের পুনর্বাসনের সুযোগ দিতেই এই ব্যবস্থা।
ফ্রেশারদের আপত্তি কী?
সাধারণ প্রার্থী ও ফ্রেশারদের অভিযোগ, এই নিয়ম বৈষম্যমূলক। কারণ ইন-সার্ভিস প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষার ৯০ নম্বরের সঙ্গে অভিজ্ঞতার ১০ নম্বর যোগ করে মোট ১০০ নম্বরে মূল্যায়িত হচ্ছেন, যেখানে ফ্রেশাররা কার্যত লড়াই করছেন মাত্র ৯০ নম্বরে। ফলে প্রাথমিক বাছাইতেই তাঁরা পিছিয়ে পড়ছেন। তাঁদের দাবি—এই ১০ নম্বর নিয়োগের পরবর্তী ধাপে যুক্ত করা হোক, প্রাথমিক মেধা তালিকায় নয়।
রায়ের প্রভাব কোন দিকে যাবে?
আজ আদালত স্থির করবে—নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরুতেই এই ১০ নম্বর ‘গ্রেস’ দেওয়া সংবিধানসম্মত ও বৈধ কি না। যদি নিয়ম বাতিল বা স্থগিত হয়, তবে কমিশনকে মেধা তালিকার পদ্ধতি নতুন করে সাজাতে হবে। আর নিয়ম বহাল থাকলে ইন-সার্ভিস প্রার্থীরা বড় সুবিধা পাবেন। সব মিলিয়ে, সেকেন্ড এসএলএসটি-র ভবিষ্যৎ আজকের রায়ের উপরই নির্ভরশীল।










