কালো পতাকা উত্তোলনে শেষশ্রদ্ধা নিহতদের, হাড়ি চড়েনি শীতলকুচির কোনো ঘরে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: কালো পতাকা উত্তোলনে শেষশ্রদ্ধা নিহতদের, সম্পন্ন হলো চারজনের শেষকৃত্য। স্তব্ধ গোটা শিতলকুচি ফুঁসছে ভেতরে ভেতরে। গতকাল ভোট ছিল সেখানে। দিনের প্রথম ভাগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৫ জন। আজ রবিবার, ময়নাতদন্তের পর নিহতদের দেহ তুলে দেওয়া হয়েছে তাদের পরিবারের হাতে। ঘটনায় উত্তাল রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যে একাধিক নিয়ম জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুনঃ ‘বাড়াবাড়ি করলে জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে,’ দিলীপের কঠোর শাস্তি চাইলেন শ্রীলেখা।

কমিশনের সেই নির্দেশের জন্যই আজ শিতলকুচি যেতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে শিলিগুড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে ভিডিও কলে কথা বলেছিলেন নিহতদের পরিবারের সঙ্গে। গতকাল ভোট চলাকালীন মাথাভাঙার জোড়পাটকায় আমতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলি প্রাণ নিয়েছে হামিদুল মিয়া, ছামিউল মিয়া, নুর ইসলাম এবং মনিরুল হকের। প্রত্যেকের বয়স ২০থেকে ৩০এর মধ্যে। কেউ কাজ করতেন রাজমিস্ত্রির তো কেউ কলেজ ছাত্র।

আজ তাদের ময়ন্তদন্তের পর মৃতদেহ তুলে দেওয়া হয়েছে পরিবারের হতে। দেহগুলি নিয়ে যাওয়া হয় সেই মাঠেই। কালো পতাকা উত্তোলনে শেষশ্রদ্ধা জানান বাসিন্দারা। তার পর নিয়ে যাওয়া হয় সমাধিস্থ করার জন্য। একই দিনে একই স্থানের ৪জন তরতাজা মানুষের প্রাণ গেছে কাল। ক্ষোভ রাগ সব নিয়েও স্তব্ধ হয়ে গেছেন এলাকাবাসী। হাড়ি চড়েনি কারো ঘরে।নিহতের পরিবার ভাবছেন কিভাবে চলবে দিন। মনিরুলের মামা জানিয়েছেন, বুথের মধ্যে আচমকা কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে গুলি চালায়, তারা পালিয়ে যাওয়ার পর সকলে গিয়ে দেখেন ওরা মারা গিয়েছে।

মনিরুল রেখে গেছেন ৪৫ দিনের শিশু সন্তানকে। অন্যদিকে হামিদুল সন্তান এখনো আলো দেখেনি দুনিয়ার। এক মেয়ে আছে, স্ত্রী গর্ভবতী। হতাশায় পরিবার ভাবছে দিন গুজরানের কথা। প্রশ্ন উঠছে দেশের আইন কেমন, দেশের আইন কই? সব হারিয়েছেন যাঁরা, যাঁরা পুত্র হারিয়েছেন বা পিতা, তাদের ভেতর থেকে উঠে আসা এই প্রশ্ন আজ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে করেছিলেন মনিরুলের মামা। “যদি ভোট দিতে গিয়েই খুন হতে হয়, তাহলে সে দেশের আইন কেমন?” মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন নির্বাচনের নিয়ম বিধি মিটলেই যাবেন তিনি।

দেখা করে আসবেন নিহতদের পরিবারের সঙ্গে। ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছেন নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা। নির্বাচন কালে যেহেতু একাধিক বিধি থাকে, সেই কারণে শিলিগুড়ির সভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন আচরণ বিধি লঙ্ঘন না করে নিহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছিলেন তিনি। ভোট পরিস্থিতিতে যেহেতু সরাসরি ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়না, সেদিক থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন প্রার্থী হিসেবে ভোট করার পর যে অর্থ বাঁচবে তাই দিয়ে পাশে দাঁড়াবেন শিতলকুচির পরিবারগুলির পাশে।

সূত্রের খবর পরিবার পরিস্থিতির কথা ভেবেই নিহত এবং আহতদের রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে কমিশন রাজি হয়েছে, তবে দেওয়া হয়েছে শর্ত। রাজ্যের তরফ থেকে জানানো হয়েছে নিহতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের পরিবারকে ২লক্ষ টাকা দেওয়া হবে ক্ষতিপূরণ হিসেবে। এই বিষয়ে শর্ত সাপেক্ষে রাজি হয়েছে কমিশন। কমিশনের তরফ থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে, ক্ষতিপূরণ দিতেই পারে রাজ্য সরকার, কিন্তু তা কোনো রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার করা যাবেনা, এবং এই ক্ষতিপূরণ কোনো রাজনৈতিক ব্যাক্তির মাধ্যমে দেওয়া যাবেনা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর