সিঙ্গুরে কি ফিরছে টাটা? মোদীর সভার আগেই বড় আশ্বাস সুকান্তর

মোদীর সিঙ্গুর সভার আগেই বিজেপির বড় দাবি—ক্ষমতায় এলে ফিরবে টাটা। শিল্প চাইছেন কৃষকরাই, বললেন সুকান্ত মজুমদার। পাল্টা তোপ সিপিএম ও তৃণমূলের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র আসন্ন সিঙ্গুর সভাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তাপ। সেই আবহেই বড় দাবি করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ও বঙ্গ বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার—বিজেপি ক্ষমতায় এলে সিঙ্গুরে আবার শিল্প ফিরবে, এমনকি টাটাও ফিরে আসতে পারে। তাঁর বক্তব্য, যে জমিতে এক সময় কারখানা হওয়ার কথা ছিল, সেই জমি আজ শিল্পের জন্য কৃষকরাই দিতে চাইছেন।

বিজেপির দাবি, সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর সভার জন্য জমি দিয়েছেন কৃষকরাই। তাঁদের বক্তব্য, কৃষির পাশাপাশি এলাকায় শিল্প দরকার—কর্মসংস্থানের প্রয়োজনেই এই দাবি জোরালো হচ্ছে। সুকান্ত মজুমদারের আশ্বাস, বিজেপি সরকার এলে ওই জমিতেই শিল্প হবে এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করা হবে।

সিঙ্গুর আন্দোলন যে বাংলার রাজনীতিতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে নতুন নয়। বামফ্রন্ট জমানায় এখানে Tata Motors-এর ন্যানো কারখানার জন্য জমি অধিগ্রহণ হয়েছিল। সেই সময় বিরোধী নেত্রী হিসেবে প্রবল আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, কৃষকদের কাছ থেকে জোর করে জমি নেওয়া হয়েছে। আন্দোলন তীব্র হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত সিঙ্গুর ছাড়তে বাধ্য হয় টাটা।

উল্লেখযোগ্যভাবে, সেই আন্দোলনের সময় তৃণমূল কংগ্রেসে ছিলেন বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আন্দোলনে শামিল হলেও, পরে এই ইস্যুতে নিজের অবস্থান বদল করেন। সেই বিতর্কিত সিঙ্গুরেই এবার প্রধানমন্ত্রী মোদীর সভা—ফলে রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য আরও তীব্র। তিনি বলেন, “আমরা জানি শিল্প কীভাবে আনতে হয়। উত্তরপ্রদেশে বিজনেস করিডর হচ্ছে, তামিলনাড়ুতেও হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্লায় পড়লে নাকও যাবে, নুড়ুলও যাবে—কিছুই পাওয়া যাবে না। উনি শুধু নিজের পরিবারের জন্য কাজ করেন।”

এই বক্তব্যে পাল্টা তোপ দেগেছে বিরোধীরা। সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত কটাক্ষ করে বলেন, “নির্বাচনের আগে এত বড় বড় প্রতিশ্রুতি নতুন কিছু নয়। আগে বলেছিলেন দুর্নীতিবাজদের ধরবেন—ভোট এলেই দেখা যায় কাকে ধরা হয়, কাকে ছাড়া হয়।”
তৃণমূল মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ বলেন, “গুজরাটে যে কারখানা হয়েছিল, সেটাই বন্ধ হয়ে গিয়েছে—কেন বন্ধ হল? আর বাংলায় টাটা আগেও বিনিয়োগ করেছে, এখনও করছে। সিঙ্গুরের আন্দোলন তখন সব রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের আন্দোলন ছিল। তখন রাজনাথ সিংও মুখ্যমন্ত্রীর পাশেই ছিলেন।”

সব মিলিয়ে, মোদীর সভার আগে সিঙ্গুরে ‘টাটা ফেরা’ নিয়ে আশ্বাস রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শিল্প বনাম আন্দোলনের পুরনো বিতর্ককে উসকে দিল। বাস্তবে এই প্রতিশ্রুতি কতটা রূপ পায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে বাংলা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর