কলকাতায় আরজি কর কাণ্ডের বর্ষপূর্তিতে নবান্ন অভিযানের মঞ্চে ফের বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, কলকাতার প্রাক্তন নগরপাল বিনীত গোয়েলকে বর্তমান নগরপাল মনোজ ভার্মা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। এই অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
শনিবার বিকেলে ই এম বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নির্যাতিতার মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন অভিযানের সময় পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হওয়ায় তাঁকে সেখানেই ভর্তি করা হয়েছিল। শুভেন্দুর অভিযোগ, অভিযানের সময় নির্যাতিতার বাবা-মাকে খুনের চেষ্টা পর্যন্ত করেছে পুলিশ, যাতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ দুই সাক্ষীকে সরিয়ে দেওয়া যায়।
শুভেন্দু বলেন, ‘‘মনোজ ভার্মা স্পষ্টভাবে বিনীত গোয়েলকে রক্ষা করতে চাইছেন। দুই সাক্ষীকে শেষ করে দিলে মামলা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে—এই ছিল পরিকল্পনা। অভিজিৎ সরকার হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় পরেশ পাল, স্বপন সমাদ্দারের পরিণতি দেখেই ভয় পেয়েছে প্রশাসন।’’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যদি বিনীত গোয়েল ও সন্দীপ ঘোষের মোবাইল ফোন সঠিকভাবে তদন্ত করা হয়, তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও জড়িয়ে পড়তে পারে। তাঁর বক্তব্য, নবান্ন অভিযানে বিজেপির হাতে ইট বা পাথর ছিল না, কিন্তু পুলিশ টিয়ার গ্যাস, রবার বুলেট এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে।
নবান্ন অভিযানের দিন সকাল থেকেই কলকাতা ও হাওড়ার একাধিক অংশ রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেন, পার্ক স্ট্রিট এলাকায় মিছিলের পথে নির্যাতিতার বাবা-মায়ের ওপর মহিলা পুলিশ লাঠিচার্জ চালায়। নির্যাতিতার মা জানান, তাঁকে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয়েছে এবং তাঁর মাথা ও পিঠে গুরুতর আঘাত লেগেছে। বাবাও পুলিশের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তোলেন।
অভিযান শেষে হাসপাতালে গিয়ে তাঁদের শারীরিক অবস্থা দেখে শুভেন্দু সংবাদমাধ্যমের সামনে জানান, এই আক্রমণ কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়। বরং মামলাটিকে চাপা দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে সাক্ষীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর মতে, রাজ্য প্রশাসন বিজেপির আন্দোলন দমন করতে পুলিশকে ‘হিংস্র কুকুরের মতো লেলিয়ে দিয়েছে’।
শুভেন্দুর এই বক্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বেড়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে যে, এই অভিযোগ প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের মধ্যে বড়সড় চাপ তৈরি করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আরজি কর কাণ্ডের পর থেকেই বিরোধীরা রাজ্য সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। শুভেন্দুর এই সাম্প্রতিক মন্তব্য মামলাটিকে ফের জনসমক্ষে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। বিশেষত, বিনীত গোয়েল ও মনোজ ভার্মার নাম সরাসরি টেনে আনার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি আরও জোরদার হতে পারে।
এদিকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যতদিন না নির্যাতিতার পরিবার ন্যায়বিচার পাচ্ছে, ততদিন আন্দোলন চলবে। অন্যদিকে তৃণমূলের অন্দরমহলে ধারণা, শুভেন্দুর এই কৌশল শুধুমাত্র জনমত গঠনের জন্য, যা আইনি তদন্তে টিকবে না। তবে প্রশাসনিক মহলে চাপে ফেলার দিক দিয়ে এটি নিঃসন্দেহে কার্যকরী পদক্ষেপ।
রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন প্রশ্ন একটাই—বিনীত গোয়েল ও মনোজ ভার্মার ভূমিকা নিয়ে আদৌ কোনও স্বচ্ছ তদন্ত হবে কি না, নাকি এটি রাজনৈতিক বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।



