২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে অধিনায়ক শুভমান গিল জানিয়ে দিলেন, এই সিরিজ শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক লড়াই নয়, আগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতিরও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সেই কারণেই দলের কম্বিনেশন, ভবিষ্যতের ক্রিকেটার এবং অভিজ্ঞদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে।
বার্মিংহ্যামে প্রথম ওয়ানডের আগে বিরাট কোহলির সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনায় দেখা যায় শুভমান গিলকে। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ভারতীয় অধিনায়ক জানান, তাঁদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের জন্য সেরা দল গঠন।
গিল বলেন, “আমরা বিভিন্ন কম্বিনেশন নিয়ে আলোচনা করেছি। দক্ষিণ আফ্রিকার পরিবেশে কোন দল সবচেয়ে কার্যকর হবে, এখন দলে নেই অথচ ভবিষ্যতে অবদান রাখতে পারে এমন ক্রিকেটার কারা, কোন বোলার ও অলরাউন্ডারদের নিয়ে এগোনো উচিত—এসব বিষয় নিয়েই কথা হয়েছে।”
গত কয়েক মাস ধরে রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে তিনি খেলবেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে একাধিকবার। যদিও শুভমান গিলের বক্তব্যে স্পষ্ট, ভারতীয় দলের পরিকল্পনায় এখনও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা রয়েছে রোহিত ও বিরাট কোহলির।
ভারত অধিনায়কের কথায়, “রোহিত ভাই এবং বিরাট ভাই গত এক দশক ধরে ভারতের ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা। তাঁদের অভিজ্ঞতা দলের জন্য অমূল্য সম্পদ। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কীভাবে ম্যাচ জিততে হয়, সেই অভিজ্ঞতা তরুণ ক্রিকেটারদের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
এই সিরিজে আরও একটি বড় আকর্ষণ জসপ্রীত বুমরাহর প্রত্যাবর্তন। প্রায় তিন বছর পর আবার ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিরছেন ভারতের তারকা পেসার। তাঁকে নিয়ে গিলের প্রত্যাশাও স্পষ্ট।
তিনি বলেন, “বুমরাহ বেশ কিছুদিন পর ওয়ানডে দলে ফিরছে। আশা করছি, সিরিজের আগে পর্যাপ্ত অনুশীলন করেছে। ওর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আমাদের বোলিং আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করবে। আমরা চাই, এই সিরিজ জিতে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির পথে ইতিবাচক সূচনা করতে।”
উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হতাশাজনক ফল করেছে ভারত। ফলে ওয়ানডে সিরিজে ভালো পারফরম্যান্স শুধু আত্মবিশ্বাস ফেরানোর জন্যই নয়, আগামী বিশ্বকাপের রোডম্যাপ তৈরির ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।



