শ্রাবণ মাসের সোমবার পালন নিয়ে অনেকেরই ধারণা আছে। কিন্তু শ্রাবণের শেষ শনিবারের মাহাত্ম্য অনেকেই জানেন না। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, এই দিনে শিবপূজার পাশাপাশি শনিদেবকেও সন্তুষ্ট করা যায়। বিশেষভাবে পূজা করলে সাড়েসাতির ভয়ঙ্কর প্রভাব ও শনির কুদৃষ্টি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আর্থিক সমস্যা, ঋণের বোঝা এবং জীবনের নানা বাধা কাটাতে এই দিনটি বিশেষ উপকারী বলে ধরা হয়।
বিশ্বাস করা হয়, শ্রাবণের শেষ শনিবার পালন করলে একদিকে মহাদেবের আশীর্বাদ মেলে, অন্যদিকে শনিদেবও কৃপাদৃষ্টি করেন। শনির অশুভ প্রভাব থেকে রেহাই পেতে এবং ভাগ্য উজ্জ্বল করতে এই দিনে কিছু নির্দিষ্ট উপায় মেনে চলা অত্যন্ত ফলপ্রসূ।


শ্রাবণের শেষ শনিবারে শিবপূজা: শনিদেবের কৃপা পেতে দুধে মেশান এই বিশেষ উপাদান

দুধে কালো তিল মিশিয়ে শিবকে অর্পণ
এই দিনে ভোরে বা প্রভাতবেলায় স্নান সেরে শিবলিঙ্গে দুধের সঙ্গে সামান্য কালো তিল মিশিয়ে অর্পণ করতে হয়। পূজা শেষে শিবলিঙ্গে গঙ্গাজল ঢেলে স্নান করিয়ে দিতে হবে। এর ফলে সাড়েসাতির কুপ্রভাব থেকে মুক্তি মেলে এবং শনির দোষ কমে যায় বলে বিশ্বাস।
অশ্বত্থ গাছের নিচে প্রদীপ জ্বালানো
শনিবারের সন্ধ্যায় অশ্বত্থ গাছের তলায় সরিষার তেলের প্রদীপ জ্বালানো অত্যন্ত শুভ। এতে শনিদেব প্রসন্ন হন এবং জীবনের বাধা ধীরে ধীরে দূর হতে থাকে।
কুকুরকে খাবার খাওয়ানো
এই দিনে কালো কুকুর বা যে কোনও কুকুরকে গুড় ও রুটি খাওয়ানোর প্রথা রয়েছে। বলা হয়, এতে ঋণের বোঝা কমে এবং ধারবাকির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।


চামড়ার জিনিস দান
শ্রাবণের শেষ শনিবারে গরিব বা অভাবী মানুষকে চামড়ার তৈরি জিনিস দান করা শুভ। এটি শনিদেবকে তুষ্ট করার অন্যতম সহজ উপায়।
নিরামিষ আহার গ্রহণ
এই দিনে অবশ্যই নিরামিষ ভোজন করতে হয়। এটি শরীর ও মনের পবিত্রতা বজায় রাখে এবং পূজার ফল বাড়িয়ে তোলে।
জ্যোতিষবিদদের মতে, এই উপায়গুলি পালন করলে জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের দ্বার খুলে যায়। তবে যেকোনও পূজা-পার্বণ নিজের বিশ্বাস ও শাস্ত্রসম্মত নিয়ম মেনে করা উচিত।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



