নজরবন্দি ব্যুরোঃ বাতিল হোক শিশির-সুনীলের সাংসদ পদ, এই নিয়ে বহু দিন ধরেই আলোচনা চলছে ঘাসফুল শিবিরের অলিন্দে। আর এবার ওই দুজনের সাংসদ পদ খারিজের দাবিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে ফোন করে বসলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। জানিয়েছেন অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি।


নির্বাচনের ঠিক আগে আগেই রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক হারে দল বদল ঘটেছে। তৎকালীন এবং বর্তমান শাসক দল তৃণমূল থেকে রীতিমত নিয়ম করে দলত্যাগ করেছিলেন বহু নেতা মন্ত্রী। কারো দলে থেকে কাজের অসুবিধে হয়েছিলো, কেউ বা মানুষের জন্য কাজ করেত চান, কেউ বা গেরুয়া শিবিরের হাত ধরে সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন। আর সেই কারণেই সকলেই দলত্যাগ করেই কালবিলম্ব না করে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে।
তবে প্রবল আত্মবিশ্বাসের পরেও জেতেনি বিজেপি। বাংলায় মমতার মা মাটি মানুষের সরকারের সামনে একপ্রকার আটকে গিয়েছে বিজেপির রথের চাকা। দলত্যাগীরা ভোটে দাঁড়িয়েও খুব সুবিধে করতে না পেরে হেরেছেন বেশিরভাগই। অনেকেই ইতিমধ্যেই ফের তৃণমূলে আসতে চাইছেন, অনেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন।
দলত্যাগের আবহেই বহু ভাবনা চিন্তা করে দল বদলেছেন সুনীল মণ্ডল। শিশির অধিকারী আনুষ্ঠানিক ভাবে গেরুয়া শিবিরের পতাকা হাতে না নিলেও, বিজেপির সভায় থেকেছেন। এই দলবদলের হিড়িকের হোতা তাঁরই পুত্র শুভেন্দু অধিকারী, তাঁর কথাতেও একাধিক বার উঠে এসেছে পিতা হিসেবে পুত্রের পাশে থাবেন তিনি। অগত্যা দূরত্ব বেড়েছে শাসক দলের সঙ্গে। সরানো হয়েছে তাঁকে একাধিক পদ থেকেও।


তবে সুনীল-শিশির উভয়েই এখনও শাসক দলের সাংসদ পদে অবতীর্ন। এই দুজনের সাংসদ পদ বাতিল নিয়ে এর আগেও একাধিক চর্চা হয়েছে দলের অন্দরেই। উভয়ের পদ খারিজের জন্য বার কয়েক চিঠি পাঠিয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ফলাফল না আসায় আজ সরাসরি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে ফোন করেছেন তিনি। কথোপকথনের পর সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, স্পিকার বেশ লম্বা সময় সংসদে যাননি, তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, গিয়ে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।
বাতিল হোক শিশির-সুনীলের সাংসদ পদ, লোকসভার স্পিকারকে ফোন সুদীপের। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমার ধারনা, স্পিকার অন্তত ওই দুই সাংসদকে ডেকে জানতে চাইবেন, তাঁরা কোন দলে রয়েছেন। তৃণমূল না বিজেপি? এটুকু তো উনি করতেই পারেন। করা উচিত।’’ তবে এখন দিন দুই-তিন তিনি অপেক্ষা করে পরে ফোন করে বিষয়টি সম্পর্কে ফের জানতে চাইবেন বলেই জানিয়েছেন।







