মনকেমনের ৭-এ শান্তিনিকেতনে সুর বাঁধছে ‘পৌষ উৎসব’।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: মনকেমনের ৭-এ শান্তিনিকেতনে সুর বাঁধছে ‘পৌষ উৎসব’। এই মাস শান্তিনিকেতনের মনখারাপের মাস। মনকেমনের পৌষ পেরোচ্ছে শান্তিনিকেতন। ১৮৯৪ সালের পর প্রথম বার “পৌষ মেলা” ছাড়া দিন কাটাচ্ছে বোলপুরবাসী। বিষণ্ণ বোলপুরে ঠান্ডা এবার অনেক বেশি। ১৮৪৩ সালে ৭ ই পৌষ মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর দীক্ষা নেন ব্রাহ্মধর্মে। দীর্ঘ সময় পরে ১৮৯১ সালের ৭ই পৌষ শান্তিনিকেতনে স্থাপিত হয় উপাসনা মন্দির।

আরও পড়ুনঃশীতের ব্যাটিং অব্যাহত, জবুথবু রাজ্যবাসী।

আর মহর্ষির দীক্ষা দিবস উপলক্ষ্যে সেদিন প্রথম শুরু হয় পৌষ মেলা। পরবর্তী সময়ে ১৮৯৪ থেকে শান্তিনিকেতনে ধারাবাহিক ভাবে চলে আসছে পৌষ মেলা। আর আজ সেই ৭ই পৌষ। মনকেমনের শান্তিনিকেতন এবার পালন করছে “পৌষ উৎসব”। শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট ও বিশ্বভারতী কর্তিপক্ষ মিলে পালন করছে ঐতিহ্যের ১২৬ তম পৌষ উৎসব। ছাতিম তলায় উপাসনার মধ্যে দিয়ে শুরু হলো আজ। অন্যান্য বার পৌষ মেলা মানেই তার আগে থেকে সাজো সাজো রব, মেলা শেষের পরও ভাঙ্গা মেলাতেও আবেগ খোঁজেন হাজারো মানুষ। সেখানে এবার কেবলই শীত কাল। পৌষ উৎসব ঐতিহ্যের ঠিকই, কিন্তু পৌষ মেলা আবেগের, আনন্দের।

রুজি-রোজগার থেকে আনন্দ-উৎসব হাজার হাজার মানুষ তাকিয়ে থাকেন ৭ই পৌষ তারিখের দিকে। এর আগেও ব্যবসায়ী সমিতির সাথে নানা বিবাদে গিয়ে একাধিকবার বিশ্বভারতী মেলা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলেও আবেগের কাছে হার মেনে প্রতিবারই ছাড়পত্র দিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। কিন্তু এবার ‘ কোভিড ১৯’ কার্যত থামিয়ে দিয়েছে সবকিছুকে। যদিও দিন এগিয়ে আসছে বিশ্বভারতীর শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে থাকবেন রাজ্যের রাজ্যপাল, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। ভার্চুয়ালে যোগ দিতে পারেন নরেন্দ্র মোদী।

মনকেমনের ৭-এ শান্তিনিকেতনে সুর বাঁধছে ‘পৌষ উৎসব’। একাধিক তোপের মুখে পড়ে এদিন অনুষ্ঠানে যোগ দানের জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আমন্ত্রন জানান উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। সব মিলিয়ে ব্যবস্ততায় বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি। তবুও মেলার শব্দ, হজার মানুষের চিৎকার, হকারের হাকডাক, শাল পট্টি থেকে খুঁজতে খুঁজতে হারিয়ে যাওয়া নতুন মানুষ সবাইকে এবার চোখে হারাচ্ছে বোলপুর। আর বোলপুরে ফেরার দিন গুনছে আরো অনেকে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত