নজরবন্দি ব্যুরো: দল সামলাতে শাহ্-টিপস! নির্বাচনের আগে সমস্ত আঙ্গিক থেকে বাংলাকে দেখে হিসেব কষে প্রার্থী তালিকা বানাচ্ছে বিজেপি। তৃণমুল কংগ্রেস যখন একই দিনে ঘোষণা করেছে ২৯১ আসনের প্রার্থী নাম, তখন একেকবারে দু’দফার প্রার্থী নাম প্রকাশ করছে বিজেপি। প্রতিবার ঘোষণার আগে বৈঠকের জন্য বাংলা থেকে দিল্লি উড়ে যাচ্ছে বঙ্গ বিজেপির কোর কমিটি, সকাল থেকে সন্ধ্যে বৈঠক হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা মন্ত্রীদের সঙ্গে। ২০১৯এর লোকসভা নির্বাচন জিতে বাংলায় বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি।
আরও পড়ুনঃ বাংলায় বিজেপির সরকার হলে ‘লাভ জেহাদ’ আইন চালু হবে! বললেন বিজেপি নেতা নরোত্তম মিশ্র


আর তখন থেকেই শুরু হয়েছে বাংলায় বিজেপির মূল উত্থান। লোকসভার ১৮টি আসন নিয়ে বিজেপির এবারের লড়াই ২৯৪ টি আসনের প্রতি। তবে বাংলা বিজেপিতে সামনে সারির মুখের অভাব বরাবর। বঙ্গ বিজেপির একেবারে প্রথম পর্যায়ে ছিলেন যাঁরা তাঁদের মধ্যে অন্যতম রাহুল সিনহা, শমীক ভট্টাচার্য তুলনামূকভাবে ব্যাকফুটে। এছাড়া আছেন দিলীপ ঘোষ, লকেট চট্টোপাধ্যায়, শিশির বাজোরিয়া, সায়ন্তন বসু,স্বপন দাশগুপ্ত, বাবুল সুপ্রিয়, দেবশ্রী চৌধুরী, রূপা গাঙ্গুলি সহ আরো কয়েকজন। এঁদের ছাড়া এই মুহূর্তে বঙ্গ বিজেপির সামনের সারির মুখ যাঁরা তাঁদের অধিকাংশই তৃণমূল থেকে আসা নেতা মন্ত্রীরা।
নির্বাচনের ১৫দিনও নেই যেখানে, সেখানে বিজেপির তরফ থেকে এখনো জানানো হয়নি মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর নাম। এই পরিস্থিতিতে সব চেনা মুখেদের ভোটযুদ্ধে নামিয়ে দিতে চাইছে না কেন্দ্রীয় কমিটি। চাইছে কেউ কেউ থাকুক যুদ্ধের বাকি আয়োজনের জন্য। নাহলে ৮দফার সমস্ত ভোট পর্ব এবং তার আগের কদিনে প্রচার সামলাতে সমস্যা হতে পারে। নির্বাচনের ঠিক আগে যে পরিমাণ অন্যদলের নেতা নেত্রী বিজেপিতে গেছেন এবং টলিউডের একঝাঁক মুখ গিয়েছেন, সেক্ষেত্রে পুরনো নেতা নেত্রীদের সঙ্গেই টিকিটের জন্য লড়াইয়ে ছিলেন তাঁরাও। বিজেপির তরফ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল একেকটি আসনের জন্য দাবিদার অনেক।
খুব ভেবে চিন্তে বৈঠক করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে দল। সকলে প্রার্থী তালিকায় উঠবেনা এটা জেনেই দলীয় বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্তা দিয়েছিলেন “প্রার্থী তো সবাই হতে চায়, কিন্তু কেউ কেউ হবে, বাকিরা ভোট করাবে।” বাকিরা মনো ক্ষুন্ন যাতে না হন, তার পক্ষে তিনি বুঝিয়েও দিয়েছিলেন বাকিদের দায়িত্ব নিয়ে পের করতে হবে ভোট বৈতরণী। তবুও লোকসভা ভোটে জিতে থাকা চার সাংসদকে আবার বিধানসভায় প্রার্থী করেছে বিজেপি। এরপর বাকিদেরও প্রার্থী করা হলে সামগ্রিক পর্ব সামলাতে বিপদে পড়তে হতে পারে দলকে ভেবেই একাধিক চেনা মুখকে প্রার্থী করেনি বিজেপি। তবে টিকিট না পেয়ে বিক্ষোভ এবং অভিমানে পদত্যাগ শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই।


দল সামলাতে শাহ্-টিপস! যদিও বিজেপির তরফ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল যেসব বিধায়ক এবারও লড়বেন, তাঁরা নিজেদের পুরনো কেন্দ্র থেকেই দাঁড়াবেন, শুধু শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না তাঁর পূর্ব কেন্দ্র বেহালা পূর্ব থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণা হওয়ায় সেখানে বিজেপি প্রার্থী করেছিল অভিনেত্রী পায়েল সরকারকে। প্রার্থী করা হয়নি বৈশাখী বন্দোপাধ্যায়কেও। আর সেই অভিমানে আজই দলত্যাগ করেছেন এই জুটি। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, শোভনের সমর্থনে বেহালা পূর্ব থেকে রত্না এবং পায়েলের বিপক্ষে নির্দল থেকে লড়তে পারেন তাঁর প্রিয় বান্ধবী বৈশাখী বন্দোপাধ্যায়।







