দেশের শেয়ার বাজারে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত। সপ্তাহের শেষ ট্রেডিং সেশনেও ঊর্ধ্বমুখী রইল সেনসেক্স (Sensex) ও নিফটি৫০ (Nifty50)। টানা তিনটি ট্রেডিং সেশনে লাভের মুখ দেখল দুই প্রধান সূচক। শুধু তাই নয়, জুলাই মাস জুড়েও প্রায় ২ শতাংশ করে বৃদ্ধি পেয়েছে বেঞ্চমার্ক ইনডেক্স দু’টি। ফলে সাম্প্রতিক বাজারের র্যালিতে স্বস্তি ফিরেছে লগ্নিকারীদের একাংশের মধ্যে, যদিও এক বছর আগের তুলনায় বাজার এখনও নিম্নমুখী অবস্থানেই রয়েছে।
শুক্রবারের লেনদেন শেষে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (Bombay Stock Exchange)-এর সেনসেক্স ১৬৬ পয়েন্ট বা ০.২১ শতাংশ বেড়ে ৭৮,০৯৪ পয়েন্টে বন্ধ হয়। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (National Stock Exchange)-এর নিফটি৫০ ৬৬ পয়েন্ট বা ০.২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৪,৩৮৩ পয়েন্টে পৌঁছায়। একই সঙ্গে নিফটি মিডক্যাপ ১০০ এবং নিফটি স্মলক্যাপ ১০০ সূচকও ০.৪৪ শতাংশ করে উপরে ওঠে।
এই উত্থানের প্রভাব পড়েছে বাজার মূলধনেও। শুক্রবারের ট্রেডিং শেষে বিএসই-তে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির সম্মিলিত মার্কেট ক্যাপিটাল প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। টানা তিন দিনের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে।
জুলাই মাসের হিসাব বলছে, সেনসেক্স ও নিফটি৫০—দুই সূচকই প্রায় ২ শতাংশ করে বেড়েছে। বছরের শুরুতে বড় ধাক্কা খেলেও জুন ও জুলাই—পরপর দুই মাসে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি ছবিতে এখনও কিছুটা চাপ রয়েছে। গত এক বছরের তুলনায় নিফটি৫০ এখনও প্রায় ৭ শতাংশ এবং সেনসেক্স ৮ শতাংশেরও বেশি নিচে অবস্থান করছে।


সেক্টরভিত্তিক সূচকের দিকে নজর দিলে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছিল সবুজ সংকেত। মিডিয়া, অটো, ইন্ডিয়া ডিফেন্স, ক্যাপিটাল মার্কেট, ফিনানশিয়াল সার্ভিস, এনার্জি এবং অয়েল অ্যান্ড গ্যাস সূচকে ১ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি হয়েছে। নিফটি ব্যাঙ্কও ইতিবাচক অবস্থানে দিন শেষ করেছে।
তবে সব সেক্টর সমানভাবে লাভের মুখ দেখেনি। সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা গিয়েছে আইটি শেয়ারে। নিফটি আইটি সূচক ১.৫৬ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি এফএমসিজি এবং ট্যুরিজ়ম খাতের সূচকও নেতিবাচক অবস্থানে ছিল।
নিফটি৫০-র অন্তর্ভুক্ত সংস্থাগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে বাজাজ ফিনান্স (Bajaj Finance)। সংস্থার শেয়ার একদিনে ৮.৩৩ শতাংশ লাফ দিয়েছে। এর পরেই রয়েছে বাজাজ ফিনসার্ভ (Bajaj Finserv), যার শেয়ার বেড়েছে ৬.২৭ শতাংশ। এছাড়া জিয়ো ফিনানশিয়াল সার্ভিস (Jio Financial Services) ৩.৮৬ শতাংশ, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা (Mahindra & Mahindra) ৩.৫০ শতাংশ এবং আদানি পোর্টস অ্যান্ড এসইজেড (Adani Ports & SEZ) ১.৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, বড় পতনের তালিকায় শীর্ষে ছিল টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (Tata Consultancy Services – TCS)। সংস্থার শেয়ার ২.৭৩ শতাংশ নেমেছে। পাশাপাশি ইটার্নাল (Eternal) ২.৬৪ শতাংশ, ম্যাক্স হেলথকেয়ার (Max Healthcare) ২.৩৪ শতাংশ, ইনফোসিস (Infosys) ২.১৭ শতাংশ এবং উইপ্রো (Wipro) ১.৪৪ শতাংশ হারিয়েছে।
জুলাইয়ের শেষে বাজারের এই ধারাবাহিক উত্থান বিনিয়োগকারীদের কিছুটা স্বস্তি দিলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে বৈশ্বিক বাজারের প্রবণতা, কর্পোরেট ফলাফল এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অবস্থানই ঠিক করবে ভারতীয় শেয়ার বাজারের পরবর্তী দিকনির্দেশ।



