গভীর রাতের নীরবতায় হঠাৎই প্রকাশ পেল বহু প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা। কিন্তু তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হওয়ার বদলে আরও বেড়েছে প্রশ্ন—কতজনের নাম চূড়ান্ত হল? কতজন বাদ পড়লেন? নির্বাচন কমিশনের নীরবতায় উদ্বেগে লক্ষ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ ভোটার।
সোমবার রাত ১২টার কয়েক মিনিট আগে নির্বাচন কমিশন অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেও, গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান গোপনই রয়ে গিয়েছে। কমিশন জানায়নি মোট কতজনের নিষ্পত্তি হয়েছে বা কত নাম বাদ পড়েছে। শুধু জানানো হয়েছে—বুথভিত্তিক দু’টি পৃথক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে অন্তর্ভুক্ত ও বাদ পড়া ভোটারদের আলাদা করে দেখানো হয়েছে।
এর আগে রবিবার কমিশন জানিয়েছিল, সোমবার সন্ধ্যার মধ্যেই তালিকা প্রকাশ করা হবে। এমনকি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল রাত ৯টার সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময় পেরিয়ে মধ্যরাতে তালিকা প্রকাশ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ৬০ লক্ষের বেশি বিবেচনাধীন ভোটারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রায় ৭০০-র বেশি বিচারক এই যাচাইয়ের কাজে নিযুক্ত। ইতিমধ্যেই প্রায় ২৯ লক্ষের নিষ্পত্তি হয়েছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে, তবে সেই সংখ্যার প্রতিফলন তালিকায় কতটা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
প্রযুক্তিগত সমস্যাও এই প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করেছে। বহু ভোটার অভিযোগ করেছেন, অনলাইনে তালিকা ডাউনলোড করা যাচ্ছে না। এমনকি এপিক নম্বর দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে নিজের নাম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
পটভূমিতে রয়েছে বিশাল সংখ্যার ভোটার সংশোধন প্রক্রিয়া। বিশেষ নিবিড় সংশোধনের আগে রাজ্যে মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ৭.৬৬ কোটি। খসড়া তালিকায় বাদ পড়ে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম। পরে চূড়ান্ত তালিকায় আরও প্রায় ৫.৪৬ লক্ষ নাম বাদ যায়। সব মিলিয়ে বাদ পড়ার সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৩ লক্ষেরও বেশি।
এখনও যাঁদের নাম বিবেচনাধীন, তাঁদের জন্য খোলা রয়েছে আপিলের পথ। নাম বাদ পড়লে সংশ্লিষ্ট ভোটাররা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন—অনলাইন বা অফলাইন, দু’ভাবেই। ইতিমধ্যেই ২৩ জেলার জন্য ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে, যেখানে প্রাক্তন বিচারপতিরা শুনানি করবেন।
কমিশনের এই ধাপে ধাপে তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ছবিটা স্পষ্ট হবে না। তবে আপাতত যা পরিষ্কার—এই ভোটার তালিকা ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি।



