দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের। শিয়ালদা শাখায় যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চারটি নতুন রেল রুট চালুর সিদ্ধান্ত নিল রেল মন্ত্রক। অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা প্রকল্পগুলি পুনরুজ্জীবিত হলে শুধু যাতায়াত নয়, সীমান্ত বাণিজ্য, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি আসবে বলে মনে করছে রেল।
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে যোগাযোগ আরও মজবুত করতে এই চারটি নতুন রেললাইন বসানো হবে। প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে রেল যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ হবে।
রেল সূত্রে খবর, যেসব নতুন রুটে কাজ শুরু হতে চলেছে সেগুলি হল—
-
বনগাঁ–পোড়ামহেশতলা (২০ কিমি)
-
বনগাঁ–চাঁদাবাজার (১১.৫ কিমি)
-
চাঁদাবাজার–বাগদা (১৩.৮ কিমি)
-
রানাঘাট (আড়ংঘাটা)–দত্তফুলিয়া (৮.১৭ কিমি)
এই প্রকল্পগুলির আওতায় বনগাঁ জংশন থেকে চাঁদাবাজার পর্যন্ত সরাসরি রেলপথ গড়ে তোলা হবে। এই রুটে তিনটি বড় সেতু ও একটি ছোট সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক স্টেশন, প্ল্যাটফর্ম, শেড, ফুট ওভারব্রিজ এবং টিকিট কাউন্টার তৈরির কথাও জানানো হয়েছে।
বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে পেট্রাপোল ল্যান্ড পোর্ট সংলগ্ন এলাকা। নতুন রেল যোগাযোগ চালু হলে সীমান্ত বাণিজ্যের পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় যাতায়াত অনেক সহজ হবে বলে আশা। বনগাঁ থেকে কল্যাণীমুখী পোড়ামহেশতলা পর্যন্ত রেল সংযোগ উত্তর ২৪ পরগনার অনগ্রসর গ্রামীণ এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।
এই অংশে একটি বড় সেতু এবং ৩৭টি ছোট সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বনগাঁ–রানাঘাট শাখার ২১ নম্বর লেভেল ক্রসিংয়ের কাছ থেকে নতুন লাইনের সূচনা হবে। রেল আধিকারিকদের মতে, এই রুট চালু হলে কৃষিজ পণ্য পরিবহণ যেমন সহজ হবে, তেমনই সীমান্ত নিরাপত্তাও আরও জোরদার হবে।
বনগাঁ–পেট্রাপোল সেকশন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই নতুন ব্রডগেজ লাইনটি বনগাঁ–বাগদা রাজ্য সড়কের সমান্তরালে নির্মিত হবে। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে দুটি বড় সেতু ও ১৪টি ছোট সেতু গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়াও, শিয়ালদা শাখার গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন রানাঘাটের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে দত্তফুলিয়া। বর্তমানে দত্তফুলিয়া এলাকার বাসিন্দাদের ট্রেন ধরতে দীর্ঘ পথ সড়কপথে যাতায়াত করতে হয়। নতুন রেলপথে ১৫টি ছোট সেতু নির্মিত হবে, যা প্রায় ২৮০ বর্গ কিলোমিটার এলাকার মানুষের বহুদিনের রেল পরিষেবার দাবি পূরণ করবে।
রেল সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, এই রুটগুলিতে ভবিষ্যতে ইএমইউ লোকাল পরিষেবা চালু হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চল শহরতলি রেল ব্যবস্থার আওতায় আসবে। এর ফলে কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলেই আশা।




