অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ। জুলাইয়ের শুরুতে যে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা অগস্টের প্রথম সপ্তাহেই গণ আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। ১৫ বছরের আওয়ামী লিগ সরকারের পতন ঘটেছে সোমবার। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শেখ হাসিনা। ছোট বোন রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন ভারতে। ওপার বাংলার ক্ষমতায় এখন সেনা। ক্রমেই বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে এগোচ্ছে।
সেনার হাতে দেশের ক্ষমতা থাকলেও একবিন্দু পাল্টালো না বাংলাদেশের চিত্রটা। জ্বলছে একের পর এক জেলা। দিকে দিকে মৃত্যুমিছিল। একদিনে মৃতের সংখ্যা শতাধিক। কোথাও মেরে ফেলে সেতুতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে দেহ তো আবার কোথাও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে হোটেল। সোমবার রাতে সাতক্ষীরা, কুমিল্লা, বরিশালের একাধিক মন্দির ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সংখ্যালঘুদের ওপর এই আক্রমণ কীভাবে ছাত্র আন্দোলনের আদর্শ হতে পারে? তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। আসলে, ছাত্রদের সামনে রেখে এখন রাজনৈতিক ফায়দা লুঠতে চাইছে বিরোধী শিবির বিএনপি। জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন সে দলের নেত্রী খালেদা জিয়া। জেল থেকে অনেক জঙ্গিদেরও মুক্তি দেওয়া হয়েছে। গণভবনের দখল নিয়েছে আন্দোলনকারীরা। আর সেদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আসছেন সংখ্যালঘুরা, বিশেষ করে হিন্দুরা।
মঙ্গলবার পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন অনেকেই। তাঁদের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেছেন, “ওদেশে থাকলে লাশ হয়ে যাব। আমার দোকানপাট জ্বালিয়ে দিয়েছে। সরকার তো দাবি মেনে নিয়েছিল, তারপরেও কেন এই অশান্তি হল? আমাদের খুব ভয় লাগছে। আমরা আর ওই দেশে যাব না।” এখন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হয় সেদিকেই সকলের নজর রয়েছে।



