রাজ্য জুড়ে ক্রমেই বাড়ছে ডেঙ্গুর চোখরাঙানি। হাসপাতালে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। সেই তালিকায় রয়েছেন আবাল বৃদ্ধ বনিতা। এই বছরের প্রথম শিশু মৃত্যুটি হয়েছে ২১ জুলাই। পাশাপাশি গত ১ মাসে রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৮৩৩ জন। সেই কারনেই উদবিঘ্ন প্রশাসন এবং চিকিৎসকরা। এই সময় শিশুদের জ্বর হলেই সময় নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সবার আগে রক্ত পরীক্ষা করাতে বলা হচ্ছে। ডেঙ্গুর হানা থেকে বাঁচান আপনার শিশুকে, ডেঙ্গু নিয়ে জরুরি কিছু তথ্য জেনে নিন।
এক ঝলকে দেখে নিন ডেঙ্গুর লক্ষণ কি কি?
- জ্বর। ৯৯ থেকে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তাপমাত্রা উঠতে পারে। জ্বর টানা থাকতে পারে, আবার ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে দেওয়ার পর আবারও আসতে পারে।
- শরীরে ব্যথা বিশেষত জয়েন্টে ব্যথা, পেশিতে ব্যথা, মাথা ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা।
- শরীরে লালচে র্যাশ।
- পাতলা পায়খানা, পেটে ব্যথা, পেট ফুলে যাওয়া।
- বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
- কাশি।
- ক্ষুধামন্দা।
- অস্বাভাবিক দুর্বলতা, ক্লান্তি।
- শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্তক্ষরণ (মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ, কালো রঙের পায়খানা, পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত)।
- রক্তচাপ কমে যাওয়া, পালস রেট বেড়ে যাওয়া।
ডেঙ্গুর হানা থেকে বাঁচান আপনার শিশুকে, ডেঙ্গু নিয়ে জরুরি কিছু তথ্য জেনে নিন
- বাড়িতেই হোক কিংবা স্কুলে, শিশুদের সব সময় মশা তাড়ানোর ক্রিম গায়ে মাখিয়ে রাখুন। এ ছাড়া, ফুলহাতা জামা আর ফুল প্যান্ট পরিয়ে রাখুন। স্কুলে পাঠালে লম্বা মোজা পরিয়ে পাঠান।
- বাড়ি হোক কিংবা বাড়ির বাইরে, সব সময় খুদের গায়ে মশা তাড়ানোর ক্রিম বা লোশন মাখিয়ে রাখুন।
- বাড়ির চারপাশে যেন কোনও ভাবেই জল না জমতে পারে, সে দিকে কড়া নজর রাখুন।
- জানলায় মশা আটকানোর নেট লাগিয়ে রাখুন সব সময়।
- শিশুকে বেশি করে ব্রকোলি, দই, টকজাতীয় ফল, পালংশাক, বাদাম ইত্যাদি খাওয়ান।
- জল খাওয়ান বেশি করে
- ইউক্যালিপটাস, তুলসী গাছ কিনে বাড়িতে রাখুন। এদের গন্ধে মশা দূরে থাকে।
বর্ষার সময় প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। এই রোগটি বহন করে এডিস মশা। এই মশা কামড়ালে হতে পারে ডেঙ্গু। ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে মেনে চলতে হবে কিছু ঘরোয়া নিয়ম এবং সাবধানতা। মাথায় রাখতে হবে ডেঙ্গু জ্বর ছোঁয়াচে নয়। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে স্পর্শ করলে, একই বিছানায় ঘুমালে কিংবা তার ব্যবহৃত কিছু ব্যবহার করলে। অন্য কারো এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই রোগ শুধুমাত্র মশার মাধ্যমেই ছড়ায়।
ডেঙ্গি মোকাবিলায় তৎপরতা শুরু হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা যেভাবে বেড়ে চলেছে, তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। শহর এবং শহরতলি, দুই জায়গার পরিসংখ্যানই উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ইতিমধ্যেই।



