কলকাতা বিমানবন্দর (Kolkata Airport) চত্বরে ফের বিক্ষোভের মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) সাংসদ সৌগত রায় (Saugata Roy)। মঙ্গলবার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের একটি বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে গাড়ি থেকে নামার আগেই বিক্ষোভের মুখে পড়েন দমদমের সাংসদ। তাঁর গাড়ি ঘিরে কালো পতাকা দেখানো হয়, জুতো তুলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন কয়েক জন। ওঠে ‘গো ব্যাক’ এবং ‘চোর চোর’ স্লোগান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যায়।
জানা গিয়েছে, কলকাতা বিমানবন্দর অথরিটি অফিসে মঙ্গলবার একটি বৈঠক ছিল। এলাকার সাংসদ হিসেবে সেই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য সৌগত রায়কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে নিজের গাড়িতে করে বিমানবন্দর চত্বরে পৌঁছতেই একদল মানুষ তাঁর গাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল কালো পতাকা। কয়েক জন জুতো দেখিয়েও প্রতিবাদ জানান। সৌগত রায় গাড়ির কাচ নামিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বরং ‘গো ব্যাক’ ও ‘চোর চোর’ স্লোগান আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ সৌগত রায়কে বিক্ষোভকারীদের ভিড় থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর চত্বরে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হয়।
বিক্ষোভের নেপথ্যে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও বিক্ষোভকারীদের প্রত্যেকের পরিচয় বা রাজনৈতিক পরিচয় স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে।
বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী (Arijit Bakshi) এ দিন সৌগত রায়কে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, দমদমের সাংসদকে সাধারণ মানুষের পাশে নিয়মিত দেখা যায় না। তাঁর দাবি, এলাকার মানুষ সমস্যায় পড়লেও সাংসদকে সেভাবে পাশে পাওয়া যায়নি।
অরিজিৎ বক্সীর বক্তব্য, দমদমের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হওয়ার সময়ও সৌগত রায়কে সাধারণ মানুষের পাশে দেখা যায়নি। তাঁর কটাক্ষ, বিভিন্ন ভূরিভোজের অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা গেলেও স্থানীয় মানুষের সমস্যার সময় সাংসদকে পাওয়া যায় না।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসের শেষ দিকেও নিমতায় সৌগত রায়কে ঘিরে বিক্ষোভ হয়েছিল। সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে ‘চোর’ স্লোগানও দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার পিছনে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন সৌগত রায়। সেই ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই ফের তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিক্ষোভ দেখা গেল।
এ বারের ঘটনাও রাজনৈতিক ভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর তৃণমূলের একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভের ঘটনা সামনে এসেছে। সৌগত রায়ের ক্ষেত্রেও পরপর এমন ঘটনায় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান এবং স্থানীয় স্তরে জনসংযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।
অন্য দিকে, বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ও বিজেপি বিধায়কের বক্তব্য রাজনৈতিক দাবি হিসেবেই সামনে এসেছে। সৌগত রায়ের পক্ষ থেকে মঙ্গলবারের বিক্ষোভ নিয়ে নতুন করে কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।
বিমানবন্দর চত্বরে বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে এক সাংসদকে ঘিরে এ ভাবে বিক্ষোভের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে গেলেও, সৌগত রায়কে ঘিরে পরপর বিক্ষোভের ঘটনায় দমদমের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে আরও উত্তপ্ত হচ্ছে, তা স্পষ্ট।



