কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) পদত্যাগের দাবিতে যুবসমাজকে সঙ্গে নিয়ে দেশজোড়া আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় এসেছেন ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party বা CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক (Abhijit Dipke)। সেই আন্দোলনের মধ্যেই এবার তাঁকে এনডিএ (NDA)-র শরিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আঠাওয়ালে (Ramdas Athawale)। তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়া (A)-তে যোগ দেওয়ার জন্য প্রকাশ্যেই দীপককে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনের মূল বিষয় ছিল পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি। দিল্লির যন্তর মন্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলনে বিপুল সংখ্যক ছাত্র-যুবক যোগ দেন। আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। শেষ পর্যন্ত ২৫ জুলাই প্রধানের পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসে। যদিও দীপক পরে জানিয়েছিলেন, মন্ত্রীর পদত্যাগেই আন্দোলনের সব দাবি পূরণ হয়নি এবং আরও কিছু দাবিতে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
এই পরিস্থিতিতেই সোমবার অভিজিৎ দীপককে নিয়ে নিজের অবস্থান জানান রামদাস আঠাওয়ালে। কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী আঠাওয়ালে বলেন, দীপক আম্বেদকরপন্থী ভাবধারায় বিশ্বাসী বলে তাঁর ধারণা। তরুণ এবং সক্রিয় এই আন্দোলনকারীর তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়া (A)-তে যোগ দেওয়ার কথা ভাবা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আঠাওয়ালের দল RPI(A) দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA-র শরিক। ফলে দীপককে নিজের দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান কার্যত তাঁকে শাসক জোটের পরিসরে আসার প্রস্তাব হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে এই প্রস্তাবের জবাবে এখনও পর্যন্ত অভিজিৎ দীপকের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রামদাস আঠাওয়ালে অবশ্য তাঁর স্বভাবসিদ্ধ রসিকতার সুরও বজায় রেখেছেন। তাঁর বক্তব্যের মর্মার্থ, সরকারে ভুল হলে তার শাস্তি হওয়া উচিত—আর সেই কারণে দীপকের শাসক জোটে যোগ দেওয়া উচিত। রাজনৈতিক মহলে আঠাওয়ালের এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে।
অভিজিৎ দীপকের আন্দোলন যে খুব অল্প সময়ের মধ্যে জাতীয় স্তরে নজর কেড়েছিল, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। মে মাসে অনলাইন পরিসরে CJP-র উত্থানের পর জুনে দিল্লির যন্তর মন্তরে সরাসরি আন্দোলনে নামেন তিনি। পরীক্ষা ও নিয়োগ ব্যবস্থার অনিয়মের অভিযোগকে সামনে রেখে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ধীরে ধীরে বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনের সময় পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)-সহ একাধিক পরিচিত মুখও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছিলেন। জুন-জুলাইয়ে আন্দোলনের পরিধি বাড়তে থাকে এবং কেন্দ্রের সঙ্গে CJP প্রতিনিধিদের একাধিক দফায় আলোচনা হয়। আন্দোলনের চাপে শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাটি দীপকের রাজনৈতিক পরিচিতিকে আরও বড় করে তোলে।
তবে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার পরও সক্রিয় দলীয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে দীপক অতীতে অনীহার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, কোনও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেয়ে জনআন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের চেষ্টা করতেই তিনি বেশি আগ্রহী। সেই অবস্থান বদলে এবার তিনি কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেন কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
বিশেষ করে যে ব্যক্তিত্ব কয়েক মাস আগেও মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন, তাঁকেই এবার NDA-র শরিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও আঠাওয়ালের বক্তব্য এখনও পর্যন্ত শুধুই রাজনৈতিক আহ্বান; দীপকের তরফে যোগদানের কোনও সম্মতি বা সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।
ফলে আপাতত অভিজিৎ দীপকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনাই চলছে। CJP-র আন্দোলনকে তিনি আরও বিস্তৃত গণআন্দোলনের দিকে নিয়ে যাবেন, নাকি ভবিষ্যতে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবেন—তার উত্তর এখনও অজানা। তবে রামদাস আঠাওয়ালের প্রকাশ্য প্রস্তাব সেই জল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করল।



