নজরবন্দি ব্যুরোঃ সুদীপ্তই লিখেছেন চিঠি! মেনে নিল প্রেসিডেন্সি জেল কর্তৃপক্ষ। সাড়ে ৭ বছর ধরে জেলবন্দি রয়েছেন সারদা-কর্তা সুদীপ্ত সেন। গ্রেফতার হওয়ার এতদিন পর প্রকাশ্যে আসা তাঁর একটি চিঠি গতকাল থেকে শোরগোল ফেলে দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কার্যত নউন করে একাধিক হেভিওয়েট নেতাকে বিপাকে ফেলে দিয়েছে সুদীপ্ত সেনের চিঠি! কিন্তু আচমকাই তিনি কেন চিঠি লিখলেন? চিঠিতেই সেই উত্তর দিয়েছেন তিনি। সুদীপ্ত সেনের চিঠি অনুযায়ী তিনি সিপিএম, কংগ্রেস এবং তৃণমূলের একাধিক নেতাকে কোটি কোটি টাকা দিয়েছেন! তাঁর ক্ষোভ টাকা নেওয়া সেই তৃণমূল নেতারা এখন বিজেপি-তে আশ্রয় নিচ্ছেন! তাহলে কিভাবে ব্যাবস্থা নেবে কেন্দ্রীয় সংস্থা?
আরও পড়ুনঃ চাকরিপ্রার্থীদের জন্যে সুখবর, বিপুল শূন্যপদে নিয়োগ করতে চলেছে SBI
কী আছে সুদীপ্ত সেনের চিঠিতে? চিঠিতে সারদা কর্তা লিখেছেন, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা অধীর চৌধুরী তাঁর কাছ থেকে ৬ কোটি টাকা নিয়েছেন। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু তাঁর কাছ থেকে ২ কোটি টাকা নিয়েছেন, সিপিআইএম নেতা তথা যাদবপুরের বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী নিয়েছেন ৯ কোটি টাকা! পাশাপাশি তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে তিনি দিয়েছেন ৬ কোটি টাকা। চিঠিতে মুকুল রায়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সুদীপ্ত জানিয়েছেন, মুকুল কে ঠিক কত টাকা দিয়েছেন তাঁর হিসেব নেই। তবে মুকুল নিয়েছেন সবার থেকে বেশি।
সুদীপ্ত সেনের সই করা ১ ডিসেম্বরের চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, “সমাজের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি আমার কাছ থেকে প্রচুর আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিবিআই এবং রাজ্য পুলিশকে অনুরোধ করেছি।” তিনি আক্ষেপ ব্যাক্ত করে এক যায়গায় লিখেছেন, “যাঁরা আমার কাছ থেকে প্রচুর টাকা নিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করেছেন, তাঁরাই এখন বিজেপি-তে গিয়ে যোগ দিচ্ছেন দেখে কষ্ট হয়।”
সুদীপ্তই লিখেছেন চিঠি! চিঠির সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন প্রেসিডেন্সি জেলের সুপার দেবাশিস চক্রবর্তী। তিনি জানিয়েছেন, “জেলের নিয়ম মেনে সুদীপ্তবাবু চিঠি লিখেছেন। তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। সংশোধনাগারের বিধি মেনে সেই চিঠি পাঠানো হয়েছে কারা বিভাগের এডিজি ও আইজিকে।” উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্সি জেলের সুপার দেবাশিস চক্রবর্তীর সই রয়েছে চিঠিতে। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে রাজ্য সরকারের পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে সিবিআইকে চিঠি লিখেছিলেন সুদীপ্ত। সেখানেও কয়েক জন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। সিবিআই পরে সেই নেতাদের মধ্যে কয়েক জনকে গ্রেফতার করে।



