আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট সিরিজের আগে ভারতীয় ক্রিকেটে বড় পদক্ষেপ। স্পিন বিভাগকে আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে প্রাক্তন অলরাউন্ডার সাইরাজ বাহুতুলেকে নিয়োগ করল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর এবং বোলিং কোচ মর্নি মর্কেলের সঙ্গে এবার থেকে কাজ করবেন অভিজ্ঞ এই প্রাক্তন স্পিনার।
সাম্প্রতিক সময়ে লাল বলের ক্রিকেটে ভারতের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। বিশেষ করে স্পিন-বান্ধব পরিবেশেও ব্যাটারদের ধারাবাহিক ব্যর্থতা এবং টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা হারানো নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল বোর্ড। সেই আবহেই আফগানিস্তান সিরিজের আগে স্পিন বোলিং বিভাগে বিশেষজ্ঞ কোচ নিয়োগকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাহুতুলের নাম ঘোষণা করে বিসিসিআই। নতুন ভূমিকায় তিনি মূলত ভারতীয় দলের স্পিনারদের নিয়ে কাজ করবেন। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের অবসরের পর এবং রবীন্দ্র জাডেজার বিশ্রামের আবহে তরুণ স্পিনারদের তৈরি করে তোলার দায়িত্বও তাঁর কাঁধে থাকবে।
ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ওয়াশিংটন সুন্দর, মানব সুতার এবং হর্ষ দুবের মতো তরুণ স্পিনারদের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ এবং চ্যালেঞ্জের জন্য তাঁদের প্রস্তুত করাই বাহুতুলের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হতে চলেছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে ভারতের অবস্থানও খুব স্বস্তিদায়ক নয়। ফলে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন করে ছন্দে ফেরার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
দায়িত্ব পাওয়ার পর বাহুতুলে বলেন, ভারতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচ হওয়া তাঁর কাছে বিরাট সম্মানের বিষয়। দেশের হয়ে ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করার পর এবার কোচ হিসেবে অবদান রাখার সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত গর্বের। সব ফরম্যাটেই ভারতীয় দলের সাফল্যের জন্য কাজ করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন তিনি।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সাইরাজ বাহুতুলের পরিসংখ্যান যথেষ্ট সমৃদ্ধ। ৬৩০ উইকেটের পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেছেন ছয় হাজারেরও বেশি রান। রয়েছে ন’টি শতরানও। দেশের হয়ে দু’টি টেস্ট এবং আটটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেও ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর অবদান অনেক বেশি সমাদৃত।
কোচ হিসেবেও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে বাহুতুলের। বিদর্ভ, কেরল, গুজরাত এবং বাংলার রঞ্জি দলের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। এছাড়া আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালস এবং পঞ্জাব কিংসের কোচিং সেট-আপেরও অংশ ছিলেন। ভারত ‘এ’ এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে এই দায়িত্বের জন্য আরও উপযুক্ত করে তুলেছে।
আফগানিস্তান সিরিজের আগে এই নিয়োগ ভারতীয় দলের স্পিন বিভাগে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, গম্ভীর-মর্কেল-বাহুতুলে ত্রয়ীর পরিকল্পনা মাঠে কতটা সফল হয় এবং টেস্ট ক্রিকেটে ভারত কত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।



