নজরবন্দি ব্যুরোঃ যুদ্ধ চলছে ইউক্রেনে (Russia Ukraine War)। রাশিয়া (Russia) এর মধ্যেই দাবি করেছিল, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট রাজধানী কিভ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন। তাঁকে ইউক্রেন (Ukraine) থেকে নিরাপদে বের করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল আমেরিকাও। কিন্তু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনিস্কি (Volodymyr Zelensky) কিভের রাস্তা থেকে ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন না তিনি।
আরও পড়ুনঃ হু হু করে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, যুদ্ধ থামাতে নারাজ রাশিয়া, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য


দেশবাসীর কাছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের আবেদন, কোনওভাবেই যেন রুশ আক্রমণের সামনে আত্মসমর্পণ না করেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে রাস্তা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা একটি ইউক্রেনীয় কোম্পানি বলেছে, তারা সমস্ত রাস্তার চিহ্নগুলি মুছে ফেলছে বা সরিয়ে ফেলেছে, যা রাশিয়ান সৈন্যদের ইউক্রেনের মধ্যে পথ খুঁজে পেতে অসুবিধা তৈরি করবে।
ইউক্রেভটোডর নামে ওই সংস্থা ফেসবুকে জানিয়েছে, ‘শত্রুদের যোগাযোগ দুর্বল, তারা স্থলপথে নেভিগেট করতে পারে না। আসুন আমরা তাদের সরাসরি নরকে যাওয়ার জন্য সাহায্য করি।’
BREAKING: Oil depot on fire after missile strike near Kyiv pic.twitter.com/TQkz7s8xiq
Related Newsযুদ্ধের আবহে মোদীর বড় চাল! LPG-তেল মজুতে আরব আমিরশাহির সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তিহরমুজে ভারতীয় জাহাজে হামলা! ডুবে গেল কার্গো ভেসেল, ইরানকে ঘিরে বাড়ছে সন্দেহ— BNO News (@BNONews) February 26, 2022
সামরিক অভিযানের চতুর্থ দিনে খারকিভ এবং ইউক্রেনের রাজধানী কিভে প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে রুশ সেনাকে। এই দুই জায়গায় জোর লড়াই চলছে দু’পক্ষের সেনার মধ্যে। একের পর এক রকেট হামলা চালিয়ে খারকিভে গ্যাস পাইপলাইন উড়িয়ে দিয়েছে রুশ সেনা। অন্য দিকে, কিভে তেল ভান্ডারেও বিস্ফোরণ ঘটানোর খবর পাওয়া গিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে।

ইতিমধ্যেই রাশিয়ার উপর আর্থিক প্রতিবন্ধকতা জারি করেছে আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ব্রিটেন। রাশিয়ার ব্যাঙ্কগুলিকে আন্তর্জাতিক লেনদেন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার জোর প্রস্তুতি চলছে। গত কয়েক দিন ধরে পশ্চিমের দেশগুলি রাশিয়াকে নানা ভাবে হুঁশিয়ারি দিচ্ছিল, সামরিক অভিযান বন্ধ না করলে তার মাশুল গুনতে হবে। এ বার আর হুঁশিয়ারি নয়, রাশিয়াকে আর্থিক দিক থেকে পঙ্গু করে দেওয়ার কাজ শুরু করে দিল পশ্চিমের দেশগুলি।
রাশিয়ার আক্রমণের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তোলা যে ইউক্রেনের পক্ষে কার্যত অসম্ভব, তা নিয়ে সন্দিহান নয় কেউই। রাশিয়া কিভ দখল করলে প্রেসিডেন্ট জেলেনিস্কির বন্দি হওয়ারও সম্ভাবনা প্রবল৷ তা সত্ত্বেও বিপদের সময় দেশ ছেড়ে যেতে নারাজ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট৷ এমনকী সে দেশের মানুষও নিজেদের হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই রাজধানী কিভে আঘাত হানতে শুরু করেছে রুশ সেনা৷ ইউক্রেনের সেনাঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে ছোড়া হচ্ছে মিসাইল৷

অবশ্য সামরিক অভিযানের চতুর্থ দিনে খারকিভ এবং ইউক্রেনের রাজধানী কিভে প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে রুশ সেনাকেও। এই দুই জায়গায় জোর লড়াই চলছে দু’দেশের সেনার মধ্যে। একের পর এক রকেট হামলা করে খারকিভে গ্যাসের পাইপলাইন উড়িয়ে দিয়েছে রুশ সেনা। অন্য দিকে, কিভের তেল ভান্ডারেও বিস্ফোরণ ঘটছে পরপর।
কিভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো লিখেছেন, ‘বাড়িতে আঘাত হেনেছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র।’ ইউক্রেনে চারিদিক থেকে আক্রমণ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রুশ সেনাকে। একটি বিবৃতিতে এই কথা জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। শহরের ব্যস্ত এলাকায় বহুতলে আছড়ে পড়েছে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র। তারপরই কিয়েভের রাস্তায় শুরু হয় দু’পক্ষের মুখোমুখি লড়াই।
ইউক্রেনের ২ শহরে প্রবেশ রুশ সেনার, শত্রুকে বিভ্রান্ত করতে সব রাস্তায় মোছা হল সাইনবোর্ড

রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে রবিবার জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক ডেকেছে। রাশিয়ার আগ্রাসনী নীতি এবং সামরিক অভিযান নিয়ে সোমবার সদস্য দেশিগুলির মধ্যে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে।









