বাংলাদেশের বর্তমান অস্থির রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনার মধ্যেই ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিভিচ খোজিন প্রকাশ্যে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পক্ষে জোরালো বার্তা দিলেন।
রাষ্ট্রদূত খোজিনের বক্তব্য, ঢাকার উচিত যত দ্রুত সম্ভব ভারত ও বাংলাদেশ-এর মধ্যেকার মতপার্থক্য মিটিয়ে ফেলা। তাঁর মতে, দুই দেশের সম্পর্ক সহজ হলে তা শুধু দ্বিপাক্ষিক নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

এই প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের ভূমিকার কথাও স্মরণ করান। একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে নবগঠিত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে রাশিয়ার সহায়তার ইতিহাস। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই বক্তব্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ।
উল্লেখ্য, হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে ফিরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন মহম্মদ ইউনুস। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে ভারতের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ানো এবং পাকিস্তান-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি পাকিস্তানি সেনা আধিকারিককে দেওয়া এক উপহারের মানচিত্রে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল অন্তর্ভুক্ত থাকার বিষয়টি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের সংসদের বিদেশ বিষয়ক স্থায়ী কমিটি, যার সভাপতিত্বে রয়েছেন শশী থারুর, একটি সতর্কবার্তা দেয়। কমিটির মতে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর এই প্রথম বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভারতের জন্য কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে চিন ও পাকিস্তানের প্রভাব বৃদ্ধির দিকটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।


কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আওয়ামি লিগের পতন, যুবনেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদের উত্থান, ইসলামী শক্তির পুনরাবির্ভাব এবং চিন-পাকিস্তানের বাড়তে থাকা প্রভাব—এই সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের সামনে দাঁড়িয়ে।
এই আবহে রুশ রাষ্ট্রদূতের বার্তা স্পষ্ট—ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সম্পর্কের ভারসাম্য ফিরে এলে তাতেই সবচেয়ে বেশি লাভ হবে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার।








