নজরবন্দি ব্যুরোঃ একের পর এক ডাকাতির ঘটনা ঘটে চলেছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। কিছুদিন আগেই পুরুলিয়া শহর এবং নদিয়ার রানাঘাটে গয়নার সংস্থায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। আর এবার প্রকাশ্য দিবালোকে পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার সুতাহাটা এলাকার একটি সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ১২ লক্ষ টাকার বেশি লুঠ করে ফেরার ডাকাতদল।
আরও পড়ুনঃ একদিকে যখন ইডির ‘ঘরে’ অভিষেক ঠিক তখনই এজেন্সিকে ‘একহাত’ নিল TMC, কী ব্যাপার?


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এদিন দুপুরে হঠাৎ করে একদল লোক সমবায় ব্যাঙ্কে ঢুকে পড়ে। খানিকের মধ্যেই বোঝা যায় তাঁরা ডাকাত। সমবায় সমিতির ম্যানেজার অপূর্ব দাস জানান, “আমি ফোনে কথা বলছিলাম। ফোন রাখার পরে দেখি এক ব্যক্তি হাতে হেলমেট নিয়ে ঢুকছে। সমিতির ক্যাশিয়ার ওই ব্যক্তিকে হেলমেট খুলতে বলেন। সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তি বন্দুক বের করে। তার সাঙ্গপাঙ্গরাও সমিতির মধ্যে ঢুকে পড়ে। দুষ্কৃতীরা সিসিটিভির হার্ডডিস্ক চায়। একইসঙ্গে লকারের চাবিও চায় তাঁরা।”

সমিতির লোকজনেরা প্রথমে চাবি দিতে অস্বীকার করেন। কিন্তু সেই সময় দুষ্কৃতীরা গুলি চালানোর হুঁশিয়ারি দেয়। তারপর ক্যাশিয়ারকে নিয়ে গিয়ে লকার খোলায়। লকার খোলানোর পর চলে লুঠপাট। ছিঁড়ে দেওয়া সিসিটিভির সমস্ত তারও। সমিতির সদস্যরে কয়েকজনের ভেঙে দেওয়া হয়। আর কয়েকজনের ফোন নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। যাওয়ার আগে সমিতির একটি শৌচাগারে সবাইকে বন্দি করে দেয় ডাকাতরা।


রাজ্যে ডাকাতির পর ডাকাতি! হলদিয়া সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে লুঠ নগদ ১২ লক্ষ টাকা, ধন্ধে পুলিশ

জানা গিয়েছে, সিসিটিভির ফুটেজ যে হার্ডডিস্কে থাকার কথা সেটিও খুলে নিয়ে গিয়েছে ডাকাতরা। ফলে তদন্তে নেমে অথৈ জলে সুতাহাটা থাকান পুলিশ। এখন আশেপাশেই দোকান এবং কোনও বাড়িতে যদি সিসিটিভি থাকে তাহলে তা দেখেই দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলবে।
ঘটনায় ইতিমধ্যেই এক ব্যক্তিকে সন্দেহ করছে সমবায় সমিতি কর্তৃপক্ষ। এই প্রসঙ্গে সমিতির এক কর্মী বৃহস্পতি দাস বলেন, “এক ব্যক্তি ঘটনার আধ ঘণ্টা আগে এল। এসে বলল ১৪ বছরের বাচ্চার অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। আমি ডকুমেন্টগুলো বলে দিলাম। সে বলল তার একট ডকুমেন্ট নেই। আমি ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলতে বললাম। তারপর সে চলে গেল। সেই ঘটনার আধ ঘণ্টা পর ওরা (পড়ুন ডাকাতরা) ঢোকে। ২ জনের হাতে অগ্নেয়াস্ত্র ছিল। একজনের হাতে হোজালি ছিল।”









