পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে আজ। বিতর্ক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহেই বৃহস্পতিবার রাজ্যের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নেবেন আর এন রবি। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের। তবে শপথের আগেই বিদায়ী বার্তায় একাধিক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে নতুন করে জল্পনা বাড়িয়ে দিলেন সদ্য প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস।
বুধবার রাজভবনের (বর্তমানে লোকভবন) সরকারি এক্স হ্যান্ডল থেকে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লেখেন আনন্দ বোস। সেখানে পশ্চিমবঙ্গকে নিজের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, তাঁর দায়িত্বের অধ্যায় শেষ হলেও বাংলার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না। এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরে তিনি আর রাজভবনে যাননি। বর্তমানে তিনি রয়েছেন রাজ্য সরকারের ব্যবস্থাপনায় ‘সৌজন্য’ ভবনে। সূত্রের খবর, বিদায়ের আগে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র গোছাতেও তিনি রাজভবনে যাননি। সৌজন্যের খাতিরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁকে ওই ভবনে থাকার ব্যবস্থা করে দেন।
চিঠিতে আবেগঘন ভাষায় বোস লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। বাংলার মানুষের সঙ্গে কাটানো নানা মুহূর্ত তাঁর স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এক বোনের আলিঙ্গন, এক শিশুর পিঠে স্নেহের চাপড়, এক তরুণের দৃঢ় করমর্দন—এসব স্মৃতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলার মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গভীর।
তবে তাঁর চিঠির শেষ লাইনই সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেখানে তিনি লিখেছেন, তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হলেও পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তাঁর পথচলা এখানেই শেষ নয়। এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে—তাহলে কি ভবিষ্যতে বাংলার মাটিতেই নতুন কোনও ভূমিকায় দেখা যেতে পারে প্রাক্তন রাজ্যপালকে?
উল্লেখ্য, প্রায় তিন বছর চার মাস আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের দায়িত্ব নিয়ে বাংলায় এসেছিলেন আনন্দ বোস। এই সময়কালে রাজভবন ও নবান্নের মধ্যে একাধিক ইস্যুতে টানাপোড়েন দেখা গিয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা থেকে প্রশাসনিক বিভিন্ন প্রশ্নে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছিলেন তিনি।
এমন পরিস্থিতিতেই বিধানসভা নির্বাচনের আবহে তাঁর পদত্যাগ এবং তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল থাকাকালীন ডিএমকে সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো প্রাক্তন আইপিএস আর এন রবিকে বাংলার রাজ্যপাল করে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আগে এই পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। আনন্দ বোসও দিল্লি থেকে ফিরে পদত্যাগের কারণ নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও ইঙ্গিতপূর্ণভাবে জানিয়েছিলেন—“সময়ে সব বলব।” সেই মন্তব্যের পর তাঁর এই বিদায়ী চিঠি আরও কৌতূহল বাড়িয়েছে।
আজ রাজভবনে আর এন রবির শপথের মধ্য দিয়ে প্রশাসনিকভাবে নতুন অধ্যায় শুরু হলেও, বিদায়ী রাজ্যপালের রহস্যময় বার্তা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছে।



