অভিষেককে নিশানা ঋতব্রতের, আমফান ত্রাণ ও ‘সেবাশ্রয়’ নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) বিধানসভায় ক্যাগ (CAG)-এর রিপোর্ট পেশ হওয়ার পর রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। রিপোর্ট প্রকাশের পরই তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-কে লক্ষ্য করে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। আমফান ত্রাণের অর্থ বণ্টন থেকে শুরু করে ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের আর্থিক লেনদেন—সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হন তিনি। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিক্রিয়াও এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আমফানের পর কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যে আর্থিক সহায়তা পাঠিয়েছিল, তার বণ্টনে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি প্রতি কেন্দ্রের বরাদ্দ ২০ হাজার টাকা থাকলেও বহু ক্ষেত্রে উপভোক্তাদের হাতে মাত্র ৫ হাজার টাকা পৌঁছেছিল। ক্যাগ রিপোর্টের উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৮ কোটি টাকার আর্থিক গরমিলের ইঙ্গিত মিলেছে।

এই অভিযোগের সূত্র ধরে ঋতব্রত প্রশ্ন তোলেন, কেন্দ্রীয় বরাদ্দের অর্থ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার নির্দেশে হয়েছিল। একইসঙ্গে তিনি কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তৎকালীন প্রশাসনিক কর্তাদের নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, গোটা প্রক্রিয়ার পিছনে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক কাজ করেছে। যদিও এই অভিযোগগুলির পক্ষে তিনি সাংবাদিক বৈঠকে কোনও অতিরিক্ত নথি বা প্রমাণ প্রকাশ করেননি।

আমফান ত্রাণের পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পরিচালিত ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবির নিয়েও তোপ দাগেন ঋতব্রত। তাঁর অভিযোগ, জনসেবার নামে পরিচালিত এই কর্মসূচিতে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। এমনকি স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ক্যাগ রিপোর্টে এই প্রকল্প সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে বলে তাঁর দাবি।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত আরও অভিযোগ করেন, ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পে ব্যবহৃত অর্থের প্রকৃত গন্তব্য নিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, এই আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগের সমর্থনে কোনও সরকারি তদন্তের ফলাফল বা আদালতের পর্যবেক্ষণ এখনও সামনে আসেনি।

এদিকে শনিবার ক্যাগ রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেন, এই রিপোর্ট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকা হবে। সেই প্রসঙ্গ টেনে ঋতব্রত বলেন, রিপোর্টের সমস্ত তথ্য এখনও খতিয়ে দেখা বাকি রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে যে বিষয়গুলি সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেই তাঁর দাবি।

ক্যাগ রিপোর্টকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ অধিবেশনে এই রিপোর্ট নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে বিস্তৃত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে রিপোর্টে উল্লিখিত পর্যবেক্ষণ এবং রাজনৈতিক মহলের পাল্টা দাবিদাওয়া আগামী দিনে এই বিতর্ককে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন