ঋতব্রত বিরোধী দলনেতা হতেই বাড়ছে প্রভাব! দেখা করলেন শওকত, শুভেচ্ছা জাতীয় নেতাদেরও

বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন তৃণমূলের একাংশ পরাজিত প্রার্থী। বিধানসভায় গিয়ে দেখা করলেন শওকত মোল্লাও।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার আসনে বসার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘নব তৃণমূল’ ব্লকের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর শুধু জয়ী বিধায়করাই নন, পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীদের একাংশও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

বুধবার বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিয়ে বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ঋতব্রত। এরপর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলার একাধিক পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি। পাশাপাশি দলের বর্তমান পরিস্থিতিতে পাশে থাকার আবেদনও জানানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

এই আবহেই সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ভাঙড়ের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লা-র বিধানসভায় গিয়ে ঋতব্রতের সঙ্গে সাক্ষাৎ। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সাক্ষাৎ কেবল সৌজন্য নয়, বরং তৃণমূলের অন্দরের পরিবর্তিত সমীকরণেরও ইঙ্গিত বহন করছে।

সূত্রের খবর, বৈঠকে শওকত অভিযোগ করেন যে নির্বাচনের আগে তাঁকে নিরাপদ আসন থেকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত কঠিন কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রচারপর্বেও পর্যাপ্ত সহযোগিতা মেলেনি বলেও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।

সাক্ষাতের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, শওকত তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিত এবং রাজনৈতিকভাবে সিনিয়র নেতা। ছাত্র রাজনীতির সময় থেকেই তাঁর সঙ্গে পরিচয় রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা নেই বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।

ঋতব্রতের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, শুধুমাত্র রাজ্যের নেতারাই নন, জাতীয় রাজনীতির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বও তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেই তালিকায় বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে জয়রাম রমেশ-এর নাম। সংসদীয় রাজনীতির সময় থেকে দু’জনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো বলেই পরিচিত মহলের ধারণা। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর শুভেচ্ছাবার্তা ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, বিরোধী দলনেতার শিবিরের দাবি, ভবিষ্যতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বাড়বে। তবে দলীয় অবস্থান এবং রাজনৈতিক ভূমিকার ভিত্তিতে কারও কারও ক্ষেত্রে দূরত্ব বজায় রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজন বিধায়ককে ‘ব্লকলিস্টে’ রাখা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

বিধানসভার ভেতরে নতুন বিরোধী ব্লকের আত্মপ্রকাশের পর এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। আগামী দিনে এই শিবির কতটা বিস্তৃত হয় এবং তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই দেখার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন