ভারতীয় ক্রিকেটে রিঙ্কু সিং আজ লড়াই আর স্বপ্নপূরণের প্রতীক। কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছানোর এই গল্প শুরু হয়েছিল চরম অভাব, সংগ্রাম আর পারিবারিক ত্যাগের মধ্য দিয়ে। মাসে মাত্র ১২ হাজার টাকার চাকরি করে সংসার চালানো বাবা খানচাঁদ সিং-ই ছিলেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা—যিনি এক সময় ক্রিকেট খেলার জন্য ছেলেকে বকাঝকা, এমনকি মারধরও করতেন। সেই বাবার মৃত্যুর পর ফের সামনে উঠে আসছে রিঙ্কুর সংগ্রামের অজানা অধ্যায়।
উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে এলপিজি সিলিন্ডার ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ করতেন রিঙ্কু সিংয়ের বাবা খানচাঁদ সিং। মাসিক আয় ছিল মাত্র ১২ হাজার টাকা। সেই সামান্য উপার্জনেই চলত বড় সংসার। বহু বছর ধরে সিলিন্ডার কোম্পানির দেওয়া দুই ঘরের ছোট কোয়ার্টারেই কাটিয়েছেন তাঁরা। মা বীণা দেবী ছিলেন গৃহিণী।
শৈশবে ক্রিকেট নিয়ে রিঙ্কুর আগ্রহ পরিবারে প্রথমে খুব একটা স্বীকৃতি পায়নি। লেখাপড়ায় মন না দেওয়ায় বাবার রাগের মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। এক সাক্ষাৎকারে রিঙ্কু জানিয়েছিলেন, বাবা যখনই মাঠে ক্রিকেট খেলতে দেখতেন, বকাঝকা বা মারধর করতেন। তবে মা নীরবে পাশে দাঁড়াতেন। এমনকি একবার কানপুরে টুর্নামেন্ট খেলতে যাওয়ার জন্য তাঁর মা প্রতিবেশীর দোকান থেকে ১০০০ টাকা ধার করেছিলেন।
পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে একটি স্কুল টুর্নামেন্টের পর। ফাইনালে ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচ’ হয়ে একটি মোটরবাইক জেতেন রিঙ্কু। সেই ম্যাচ দেখতে উপস্থিত ছিলেন তাঁর বাবা। সেই দিনই প্রথম ছেলের প্রতিভা উপলব্ধি করেন তিনি। এরপর আর কখনও ক্রিকেট খেলার জন্য রিঙ্কুকে বাধা দেননি।
অসংখ্য আর্থিক বাধা সত্ত্বেও ছেলের স্বপ্ন পূরণে পাশে ছিলেন খানচাঁদ সিং। তাঁর ত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের জায়গা তৈরি করতে পেরেছেন রিঙ্কু—এমনটাই মনে করেন ঘনিষ্ঠরা।
গত বছর বাবাকে লক্ষাধিক টাকার কাওয়াসাকি নিনজা ৪০০ স্পোর্টস বাইক উপহার দিয়ে শিরোনামে এসেছিলেন রিঙ্কু। সেই আনন্দঘন মুহূর্তের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। জীবনের কঠিন দিন পেরিয়ে ছেলের সাফল্যের স্বাদ পেলেও, সেই সুখ দীর্ঘদিন উপভোগ করার সুযোগ আর পেলেন না রিঙ্কুর বাবা।
আজ ক্রিকেটার রিঙ্কু সিংয়ের সাফল্যের গল্প যতটা মাঠের, ততটাই এক শ্রমজীবী বাবার অদম্য লড়াই আর বিশ্বাসের গল্প।



