RG Kar মামলায় বিরূপাক্ষ বিশ্বাসকে ঘিরে ফের বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসকের রেসিডেন্সির মেয়াদ বাতিল করার পাশাপাশি তাঁকে ২০ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ভবনের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি ঘিরে চিকিৎসক মহল ও প্রশাসনিক স্তরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ভবনের তরফে প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ডা. বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের সিনিয়র রেসিডেন্সির মেয়াদ অবিলম্বে বাতিল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইন্ডেমনিটি বন্ডের শর্ত অনুযায়ী তাঁকে ২০ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলকেও এই বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের বক্তব্য, বিরূপাক্ষ বিশ্বাসকে ভবিষ্যতে কোনও সরকারি দায়িত্বে রাখা যাবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলা, এফআইআর এবং বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেই রিপোর্টে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি স্বাস্থ্য দপ্তরের।
উল্লেখ্য, RG Kar মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের নাম সামনে এসেছিল। সেই সময় চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে কথিত ‘থ্রেট কালচার’ নিয়ে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। ওই বিতর্কে একাধিক চিকিৎসকের সঙ্গে বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের নামও আলোচনায় উঠে আসে।
তদন্ত চলাকালীন তাঁর পদপ্রাপ্তি এবং প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। সেই সূত্র ধরেই একাধিক অভিযোগের তদন্ত শুরু হয় এবং পরবর্তী সময়ে বিষয়টি স্বাস্থ্য দপ্তরের নজরে আসে।
কয়েকদিন আগেই আর এক চিকিৎসক অভীক দে-র বিরুদ্ধেও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তিনি কীভাবে সার্ভিস কোটার সুবিধা ব্যবহার করে পোস্টগ্র্যাজুয়েশন কোর্সে সুযোগ পেয়েছিলেন, সেই বিষয়েও আলাদা তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট, RG Kar মামলায় উঠে আসা অভিযোগগুলিকে কেন্দ্র করে প্রশাসন এখন আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে নজর রয়েছে চিকিৎসক মহল ও প্রশাসনের।



