ভারতের সাধারণতন্ত্র দিবস মানেই শুধু কুচকাওয়াজ নয়—এ এক শক্তি, ঐতিহ্য ও কূটনীতির সম্মিলিত বার্তা। ২০২৬ সালের সাধারণতন্ত্র দিবস সেই বার্তাকেই আরও স্পষ্ট করে দিল। কর্তব্যপথ থেকে রেড রোড—দেশজুড়ে চোখে পড়ল সামরিক শক্তি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রতিফলন। ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তিকে থিম করে আয়োজিত এবারের অনুষ্ঠান ঘিরে নজর ছিল গোটা বিশ্বের।
সকাল ১০.৪০:
কর্তব্যপথে শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজ। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের সামরিক শক্তির ঝলক দেখে গোটা বিশ্ব। একইসঙ্গে কলকাতার রেড রোডে শুরু হয় ভৈরব বাহিনীর প্যারেড।


সকাল ১০.৩০:
মহাকাশে ভারতের পতাকা উড়িয়ে ইতিহাস গড়া গ্রুপ ক্যাপটেন শুভাংশু শুক্লা-র হাতে দেশের সর্বোচ্চ বীরত্ব সম্মান অশোক চক্র তুলে দেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। মুহূর্তটি সাক্ষী থাকে গর্ব ও আবেগের।
সকাল ১০.২০:
রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে কর্তব্যপথের উদ্দেশে রওনা দেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিশেষ অতিথি—ইউরোপীয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তনিও কোস্টা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডার লায়েন।
সকাল ১০.১৪:
ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে শহিদদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। উপস্থিত ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধানরাও। একই সময়ে রেড রোডে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


এবারের সাধারণতন্ত্র দিবস কেবল জাতীয় নয়, কূটনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি স্পষ্ট করে দেয় ভারতের বিদেশনীতি কোন দিকে এগোচ্ছে। বিশ্বজুড়ে শুল্ক যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের আবহে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা এবং সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বার্তাই উঠে এল এবারের অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে।
এর পাশাপাশি, ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশাত্মবোধ, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধার আবহ তৈরি করে এবারের সাধারণতন্ত্র দিবস। সামরিক শক্তি, নারী নেতৃত্ব, মহাকাশে ভারতের পদচিহ্ন এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির মেলবন্ধনে ২০২৬-এর সাধারণতন্ত্র দিবস হয়ে রইল এক স্মরণীয় অধ্যায়।







