‘বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী, অংশীদার’—সাধারণতন্ত্র দিবসে ভারতের দিকে মৈত্রীর হাত বাড়াল চিন

৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসে ‘বন্ধু ও অংশীদার’ বলে ভারতকে শুভেচ্ছা চিনের, বদলে যাওয়া বিশ্ব রাজনীতিতে দিল্লিকে কূটনৈতিক বার্তা বেজিংয়ের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

গালওয়ান থেকে অরুণাচল—অতীতের সংঘর্ষ আর অবিশ্বাসের আবহ পেরিয়ে কূটনীতির ভাষায় এক নতুন সুর। ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসে ভারতকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ‘বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী ও অংশীদার’ বলে উল্লেখ করল চিন। খোদ চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-কে অভিনন্দন জানিয়ে সহযোগিতা ও স্থিতিশীল সম্পর্কের বার্তা দিলেন। আন্তর্জাতিক রাজনীতির বদলে যাওয়া সমীকরণে এই ‘ভোল বদল’ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

চিনা প্রেসিডেন্টের সংক্ষিপ্ত বার্তায় দুই দেশের মধ্যে বিনিময় ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শি জিনপিং বলেন, তিনি আশা করেন ভারতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও বিস্তৃত হবে এবং পারস্পরিক উদ্বেগ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যাবে। এই বক্তব্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত জটিলতা কাটিয়ে ওঠার এক ইতিবাচক ইঙ্গিত থাকলেও, সতর্কতা বজায় রাখতে চাইছে দিল্লি।

বাস্তবতা হল, গালওয়ান সংঘাতের পর আলোচনা ও সামরিক স্তরে কথাবার্তার মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও চিনের ওপর আস্থা এখনও সম্পূর্ণ নয়। লাদাখ থেকে অরুণাচল—একাধিক অঞ্চল নিয়ে চিনের আগ্রাসী অবস্থান ভারতের কাছে বরাবরই উদ্বেগের কারণ। ফলে আপাত শান্তি থাকলেও যে কোনও সময় পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে, সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখেই প্রস্তুতি জোরদার করেছে নয়াদিল্লি।

গত চার বছরে কেন্দ্র সরকার লাদাখ ও সংলগ্ন এলাকায় দ্রুত পরিকাঠামো উন্নয়নের পথে হেঁটেছে। উন্নত রাস্তা, টানেল ও সেতুর পাশাপাশি পূর্ব লাদাখের মুধি–নোওমা অঞ্চলে নির্মাণাধীন ভারতের সর্বোচ্চ বায়ুসেনা ঘাঁটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী অক্টোবরের মধ্যেই এই ঘাঁটি পুরোপুরি বিমান চলাচলের জন্য প্রস্তুত হবে বলে জানা গিয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও মজবুত করবে।

এই আবহেই চিনের তরফে বন্ধুত্বের বার্তা নতুন মাত্রা যোগ করেছে ভারতের কূটনীতিতে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন অভিবাসন নীতি থেকে শুরু করে শুল্ক যুদ্ধ—বিভিন্ন ইস্যুতে আমেরিকার চাপ সামলাতে হচ্ছে দিল্লিকে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, সাধারণতন্ত্র দিবসে ভারতকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে আমেরিকাও। মার্কিন স্বরাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও এক বার্তায় বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পক্ষ থেকে ভারতের জনগণকে প্রজাতন্ত্র দিবসে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।” তাঁর বক্তব্যে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও কৌশলগত সহযোগিতায় ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র-এর ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও উঠে আসে।

সব মিলিয়ে, বদলে যাওয়া বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে একদিকে চিনের সৌজন্যমূলক বার্তা, অন্যদিকে আমেরিকার কৌশলগত বন্ধুত্ব—দুই মেরুর মাঝেই এখন ভারতের কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার পরীক্ষা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন