নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভুঁড়ি কমানো কঠিন কিছুনা, তা নিয়ে চিন্তিত অনেকাংশই। পেটের মেদ একটি বিব্রতকর বিষয়। উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার যে পেটের মেদ বাড়ায় তা নয়, বেশি ক্যালরিযুক্ত যেকোনো খাবারই পেটের মেদ বাড়াতে পারে। অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে অনেকেই এই সমস্যায় ভুগছেন। এমনকি বাদ যাচ্ছে না শিশুরাও। বিশেষ করে ভূুঁড়ি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন অনেকেই। কীভাবে দ্রুত পেটের চর্বি কমানো যায়, তা নিয়ে চর্চা করেন সব সময়।
আরও পড়ুনঃ পুঁজি না দেখেই একাধিক প্রকল্পের ঘোষণা, সমস্যায় নবান্ন
পেট ও কোমরে মেদ জমতে শুরু করে সবার আগে। আর ভুঁড়ি কমাতে গেলে তো নিয়ম করে চলতেও হবে। ঘরে বসেই সহজ কিছু পেটের ব্য্যায়াম করতে হবে। পাশাপাশি খাবারের বিষয়েও নজর রাখতে হবে। বিশেষ করে ভুঁড়ি কমাতে সকালের খাবারের প্রতি বাড়তি যত্নশীল হতে হবে। কারণ সকালের খাবারের ওপর নির্ভর করেই আমাদের শরীর সারাদিন কাজ করার শক্তি পায়।
কি ধরনের খাওয়ার থেকে দূরে থাকবেন? তার আগে জানা জরুরি কোন ধরনের খাবারের কারণে পেটে মেদ জমতে থাকে। সাধারণত মদ্যপান, মিষ্টিজাতীয় খাবার অতিরিক্ত গ্রহণ, ডুবো তেলে ভাজা খাবার, কোমল পানীয়, অস্বাস্থ্যকর বাইরের খাবার, নিয়মিত লাল মাংস (রেড মিট) খাওয়া, স্যাচুরেটেড চর্বি গ্রহণ ইত্যাদি পেটের মেদ বাড়িয়ে তোলার পেছনে ভূমিকা রাখে।
পেটের মেদ কমাতে কার্বোহাইড্রেট কম করে প্রোটিন ও ফাইবার বেশি করে খেতে হবে। জেনে নিন তেমনই কয়েকটি খাবারের কথা, যা সকালের নাস্তায় খেলে দ্রুত কমতে পারে পেটের মেদ। তবে খেয়াল রাখতে হবে, ভুঁড়ি কমানো মানে কখনওই কম খাওয়া নয়। খাওয়ারের কোনওরকম অনিয়ম হলে বিপদ হবে উল্টে। এমনকি অনিয়মের কারণে ভুঁড়ি বেড়েও যেতে পারে। তাই, একটা নির্দিষ্ট ডায়েট আমাদের সবসময় মেনে চলা উচিত।
ডিম: কার্বোহাইড্রেট খুবই কম মাত্রায় থাকে ডিমে। তবে নানা ধরনের খনিজ পদার্থে ভরা থাকে এটি। পোচ, অমলেট হোক বা সাধারণ সেদ্ধ- যে কোনোভাবেই খেতে পারেন ডিম। এতে শরীর পাবে প্রয়োজনীয় প্রোটিনসহ নানা পুষ্টি উপাদান। দৈনিক ডিম খেলে ওজন খুব তাড়াতাড়ি কমতে শুরু করে।
উপমা: ওজন কমাতে উপমাও খুব দারুন কাজ করে। সুজি দিয়ে তৈরি করা হয় এই পদটি। অনেকটা ভাপা পিঠার মতো করে তৈরি করা হয় উপমা। এটি খেতে খুবিই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। ফাইবারে ভরপুর এই খাবার। সুজিতে থাকা ফ্যাট শরীরের ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়। শুধু খেয়াল রাখবেন, যেন তেল কম দিয়ে রান্না করা হয় উপমা।
টকদই: টকদইয়ের স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা কমবেশি সবারই জানা। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত টকদই খান, তাদের ওজন ঝরে দ্রুত। টকদইয়ে থাকে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম। যা শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে ওজনও কমায় আবার শরীরের কর্মশক্তিও জোগায়।
ভুঁড়ি কমানো কঠিন কিছুনা, একনজরে রইল কিছু সহজ টিপস

রইল আরও কিছু প্রয়োজনীয় টিপস :-
- খাদ্যতালিকায় ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যেমন—লাল চাল বা লাল আটার তৈরি খাবার এবং শাকসবজি ও ফলমূলজাতীয় খাবারে মিলবে আঁশ।
- গ্রিন-টিতে আছে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা পেটের মেদ কমাতে খুব বেশি কার্যকর। তাই দুধ ও চিনি বেশি দিয়ে চা পানের অভ্যাস বদলে নিন গ্রিন-টিতে।
- আখরোট, কাঠবাদাম ও সামুদ্রিক মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎস। তাই এসব খাবার পেটের মেদ কমাতে কার্যকর।
- ঝাল খাবার খান, পেটের মেদ কমে যাবে। অবাক হচ্ছেন? অবাক হবেন না। ঝাল খাবেন কিন্তু সেই ঝাল আসবে দারুচিনি, আদা, গোলমরিচ এবং কাঁচামরিচ থেকে। এসব রান্নায় ব্যবহার করুন। এই মসলা স্বাস্থ্যকর ও পেটের মেদ কমাতে কার্যকর।
- কাঁচা রসুনের কয়েক কোয়া সকালবেলা চুষে খান। এই অভ্যাসের ফলে দ্রুত আপনার ওজন কমবে আর পেটের মেদ ঝরবে। কাঁচা রসুন শরীরের রক্তপ্রবাহ সহজ করে। পেটে মেদ জমতে দেয় না।
- সকাল শুরু করুন এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করে। এতে শরীরের হজমপ্রক্রিয়া ভালো থাকবে এবং শরীরে মেদ জমার প্রক্রিয়া ধীর হবে।
- অতিরিক্ত চিন্তা ও কম উদ্যোগের ফলেও কোমরের চারপাশে বা পেটে মেদ জমতে পারে। তাই ভুঁড়ি কমাতে অবশ্যই চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করতে হবে।
- অনেকেই খাবার খাওয়ার পর বসে থাকেন বা শুয়ে পড়েন। তাদের খাবার সঠিকভাবে পরিপাক হয় না, ফলে পেটে চর্বি জমতে থাকে। সে জন্য খাবার খাওয়ার পর একটানা শুয়ে-বসে না থেকে ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করা উচিত।
- যাঁদের সারা দিন টেবিল–চেয়ারে বসে কাজ করতে হয়, তাঁদের পেটে সহজে মেদ জমে যায়। ভুঁড়ি গোল হতে শুরু করে। তাই তাঁদের উচিত ৩০-৪০ মিনিট বসে কাজ করার পর উঠে ১০-১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করা।
- একবারে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ না করে অল্প অল্প করে বারবার খাবার গ্রহণ করুন। সারা দিনের অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার খাবারকে ৫-৬ বারে গ্রহণ করুন। সেখানে তিনবার প্রধান খাবার ও দুই-তিনবার নাশতাজাতীয় খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন।




