দেশজুড়ে হামলার ছক ছিল! লালকেল্লা বিস্ফোরণে জইশ যোগের সন্দেহ

দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের তদন্তে নয়া তথ্য—দু’বছর ধরে বিস্ফোরক মজুতের প্রমাণ মিলছে। জইশ-ই-মহম্মদের যোগের ইঙ্গিত পাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণ তদন্তে ক্রমশই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীরা মনে করছেন, শুধু দিল্লি নয়, দেশের বিভিন্ন শহরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করেছিল মূল চক্রীদের একটি সংগঠিত জাল। সূত্রের দাবি, অন্তত দু’বছর ধরে গোপনে বিস্ফোরক সংগ্রহ চলছিল—যা এই হামলার পরিকল্পনার গভীরতা স্পষ্ট করছে।

বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকেই ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলা হয়েছে কড়া নিরাপত্তায়। দিল্লি পুলিশের বিশেষ দল এবং এনআইএ যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই ভিডিওতেই ধরা পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র—সুনহেরি মসজিদের পার্কিং লটে তিন ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে ছিল বিস্ফোরক বোঝাই সাদা রঙের আই-২০ গাড়িটি।

Shamim Ahamed Ads

তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০১৪ সালের মার্চ মাসে ওই গাড়িটি প্রথম বিক্রি হয় এক সলমন নামে ব্যক্তির কাছে। পরে তা একাধিকবার মালিকানা বদল হয়—দেবেন্দ্র, সোনু, তারপর তারিক নামে আরও কয়েকজনের হাতে। কিন্তু কখনওই আনুষ্ঠানিক রেজিস্ট্রেশন বদল হয়নি। ফলে গাড়িটির পরিচয় ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করা হচ্ছিল বলে ধারণা তদন্তকারীদের।

ফরিদাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে গাড়ি ব্যবসায়ী নাদিম খানকে। তাঁকে জেরা করেই তারিকের নাম উঠে এসেছে। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, তারিকই শেষ পর্যন্ত ঘাতক গাড়িটি বিস্ফোরণের আগে দিল্লিতে নিয়ে আসে। বিস্ফোরণের আগে গাড়িটি প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে পার্কিং লটে দাঁড়িয়ে ছিল, এরপরেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।

এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার না করলেও, তদন্তের দিকনির্দেশ জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed)-এর দিকে। কারণ, হামলায় ব্যবহৃত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট-এর ধরন ওই জঙ্গি গোষ্ঠীর আগের কয়েকটি হামলার সঙ্গে মেলে। গোয়েন্দাদের ধারণা, সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে এই বিস্ফোরক মজুত করে রেখেছিল, এবং একাধিক হামলার জন্য একই উপকরণ ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যেই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, “ষড়যন্ত্রকারীদের কেউ রেহাই পাবে না।” এনআইএ-র এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “প্রাথমিক তথ্য থেকে মনে হচ্ছে, এটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসমূলক হামলা। সময়ের আগেই বিস্ফোরণ ঘটে যাওয়ায় অনেক প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।”

দিল্লির নাগরিকদের আতঙ্কের মধ্যেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে। রেড ফোর্ট, ইন্ডিয়া গেট, মেট্রো স্টেশন, ও বিমানবন্দরে চলছে কড়া তল্লাশি। পাশাপাশি, দেশের অন্য কয়েকটি বড় শহরেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

তদন্তের সূত্রে উঠে আসছে আরও বিস্ময়কর তথ্য—দু’বছর ধরে বিস্ফোরক সংগ্রহের কাজ চলেছিল অত্যন্ত সংগঠিতভাবে। কোথাও থেকে ছোট ছোট পরিমাণে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট কেনা হচ্ছিল, যা শেষে একত্রিত করে হামলার উপকরণ তৈরি হয়।

এই ঘটনার পর থেকে দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গোয়েন্দারা বলছেন, এটি শুধু একটি বিস্ফোরণ নয়, বরং এক বৃহৎ সন্ত্রাসচক্রের অংশ হতে পারে। সবদিক খতিয়ে দেখতে দেশজুড়ে অভিযান শুরু হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত