নজরবন্দি ব্যুরো: প্রাথমিক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি মামলায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ সভাপতি গৌতম পালকে ভর্ৎসনা করেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বেতন বন্ধের হুঁশিয়ারিও দেন, এরফলে বিচারপতির কাছে অনুরোধ করেন পর্ষদ সভাপতি। সোমবার গৌতম পালকে তলব করেন বিচারপতি। নির্দেশ মতই হাজিরা দেন তিনি।
আরও পড়ুন: আদালতে রাজনৈতিক মামলার পাহাড়, ২৭-২৮ টি বিরোধী দলনেতারই, বিরক্তি প্রকাশ বিচারপতির
২০১৬ সালের টেট পরীক্ষায় বসেছিলেন মামলাকারী। প্রথমে জানতে পারেন যে তিনি পরীক্ষায় পাশ করতে পারেননি। কিন্তু পরবর্তীকালে অবশ্য জানা যায়, ওই যুবক টেট উত্তীর্ণ। এরপরই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। সেইসময়েই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পালকে নির্দেশ দেন, মামলাকারীর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ইন্টারভিউ নিতে হব। এদিকে ১ মাস কেটে গেলেও ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাক পাননি ওই যুবক। ফলে ফের আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। সোমবার এই মামলার শুনানি ছিল বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গেল বেঞ্চে।

এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় পর্ষদের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, মামলাকারীকে কেন ইন্টারভিউতে ডাকা হয়নি। তার জবাব অবশ্য পর্ষদের আইনজীবীর কাছে ছিল না। তিনি বলেন, “এই বিষয়টি তাঁর কাছে জানা নেই।” বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় জানতে চান, সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছ কি না? উত্তরে আইনজীবী জানান, “না কোনও চ্যালেঞ্জ করা হয়নি।” এরপরই প্রাথমিক পর্ষদ সভাপতি গৌতম পালকে তলব করেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

বিচারপতির নির্দেশ মানতে আদালতে গৌতম পাল বিচারপতির কাছে এক সপ্তাহ সময় চান। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি বিচারপতির কাছে কাতর আর্জি জানিয়ে বলেন, “আমার বেতন বন্ধ করবেন না। আমার পরিবারে একমাত্র আয় আমার। আমার বয়স্ক মা-এর চিকিৎসা চলছে। তাঁর দাবি, আগেও অনেক নির্দেশ মেনেছেন তিনি, আগামী নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও সুযোগ দেবেন ওই প্রার্থীকে। ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন গৌতম পাল।”
‘আমার বেতন বন্ধ করবেন না’, বিচারপতির কাছে অনুরোধ পর্ষদ সভাপতির




