বিদ্রোহী তৃণমূলের নতুন সদর দপ্তর মেট্রোপলিটন! জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের আগে জোরকদমে অফিস সংস্কার

জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের আগে মেট্রোপলিটনের তৃণমূল ভবনকে আধুনিক সদর দপ্তরে রূপ দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে বিদ্রোহী শিবির। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ঘিরেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জোরদার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ইএম বাইপাসের (EM Bypass) ধারে মেট্রোপলিটনের তৃণমূল ভবনকে ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণ আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)-এর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূল ইতিমধ্যেই এই ভবনকে নিজেদের কার্যত সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহার শুরু করেছে। এবার জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের আগে ভবনটিকে আধুনিক পরিকাঠামো-সহ পূর্ণাঙ্গ দলীয় কার্যালয়ে রূপ দিতে শুরু হয়েছে সংস্কারের কাজ। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থেকেও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছে বিদ্রোহী শিবির।

বর্তমানে মেট্রোপলিটনের এই তৃণমূল ভবন থেকেই বিদ্রোহী শিবিরের চেয়ারম্যান অরূপ রায় (Arup Roy), সাধারণ সম্পাদক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim), চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা সাংগঠনিক কাজ পরিচালনা করছেন। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই এখানেই জাতীয় কর্মসমিতির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

তবে ভবনটি দখলে এলেও তা এখনও পুরোপুরি কার্যকর দলীয় অফিস হয়ে ওঠেনি। কালীঘাট শিবিরের সঙ্গে ভবনের মালিকপক্ষের টানাপড়েনের সময় বহুতলটি থেকে বেশ কিছু আসবাব, সরঞ্জাম ও অফিস পরিকাঠামো সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কয়েকটি তলাও প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। সেই কারণেই এখন নতুন করে অফিস সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, একটি আধুনিক ও কার্যকর রাজনৈতিক সদর দপ্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরিকাঠামো তৈরি করা হবে। তাঁর কথায়, ভবনের প্রয়োজনীয় সংস্কারের পাশাপাশি একটি বড় কনফারেন্স রুম তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সভা করা যাবে। পাশাপাশি অফিস পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামোও গড়ে তোলা হবে।

বিদ্রোহী শিবিরের এক নেতা জানান, বর্তমান সময়ে একটি কেন্দ্রীয় দলীয় অফিস পরিচালনার জন্য একাধিক কম্পিউটার, ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা, অফিস বেয়ারারদের বসার ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক পরিকাঠামো অত্যন্ত জরুরি। এতদিন বিভিন্ন বৈঠক কখনও হোটেল, কখনও গেস্ট হাউসে করতে হওয়ায় সাংগঠনিক কাজে অসুবিধা হচ্ছিল। নতুন সদর দপ্তর সেই সমস্যার সমাধান করবে বলেই তাঁদের আশা।

অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবিরের নিয়ন্ত্রণে মেট্রোপলিটনের তৃণমূল ভবন চলে যাওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবিরের অধিকাংশ বৈঠক এখন তাঁর বাসভবন সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইএম বাইপাসের তপসিয়া এলাকায় নির্মীয়মাণ মূল তৃণমূল ভবনের কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। যদিও সম্প্রতি ভবনের একটি তলা ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে এবং সেখানে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের একটি বৈঠকও হয়েছে, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য রেখেছিলেন।

রাজনৈতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বিদ্রোহী শিবির ইতিমধ্যেই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকৃত সাংগঠনিক প্রতিনিধিত্ব কোন পক্ষ করবে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। বিদ্রোহী শিবিরের নেতাদের দাবি, কমিশনের রায় যদি তাঁদের পক্ষে আসে, তাহলে তপসিয়ার মূল তৃণমূল ভবনের উপরও তাঁদের দাবি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আইনগতভাবে খতিয়ে দেখা হতে পারে।

এদিকে, সংসদে আলাদা দলীয় অফিস বরাদ্দের দাবিতেও ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছে বিদ্রোহী শিবির। তাদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই আগামী দিনের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

মেট্রোপলিটনের তৃণমূল ভবনকে ঘিরে এই প্রস্তুতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, শুধুমাত্র অস্থায়ী কার্যালয় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্র হিসেবেই এই ভবনকে গড়ে তুলতে চাইছে বিদ্রোহী তৃণমূল। এখন নজর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে, কারণ সেই রায়ই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন